চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৫ জনের

আম কুড়াতে, গরু আনতে ও ঘাস কাটতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু; ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা
টুইট প্রতিবেদক: চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে তিন নারীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলার শিবগঞ্জ, সদর ও নাচোল উপজেলায় বৃষ্টির সময় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার এলাকার আব্দুল্লাহ, শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের মাহমুদা আক্তার, রানীবাড়ি বাজারপাড়া এলাকার সাদিয়া খাতুন, মোবারকপুর ইউনিয়নের মেসবাউল এবং নাচোল উপজেলার সুমিয়ারা বেগম।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে শিবগঞ্জ উপজেলায়। স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পাশের আমবাগানে আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে মাহমুদা আক্তার, সাদিয়া খাতুন ও মেসবাউলের মৃত্যু হয়। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শিবগঞ্জে নিহত তিনজনের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
অন্যদিকে সদর উপজেলার আতাহার এলাকায় মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন আব্দুল্লাহ। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একরামুল হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়া নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি এলাকায় মাঠে ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মারা যান সুমিয়ারা বেগম। নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানিয়েছেন, বৃষ্টির সময় খোলা মাঠে অবস্থান করায় তিনি বজ্রপাতের শিকার হন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সদর ও নাচোল উপজেলার নিহতদের পরিবারকেও ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
বাড়ছে বজ্রপাতের ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমের শুরুতে বজ্রপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। খোলা মাঠ, জলাশয়, কৃষিজমি ও উঁচু গাছের নিচে অবস্থান করলে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এ কারণে বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান এবং আবহাওয়া সতর্কবার্তা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ফলে গ্রামীণ জনপদে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত সতর্কতা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা।






