বিচার অঙ্গনে দুর্নীতি-ঘুষ রোধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান

আইনজীবীদের বাজেট ভাবনা সেমিনারে বক্তাদের ক্ষোভ, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক বাজেটের দাবি।
টুইট প্রতিবেদক: দেশে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এখনো বাধাগ্রস্ত বলে অভিযোগ করেছেন আইন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, বিভিন্ন ‘অ্যাক্টিভিস্ট’ গোষ্ঠীর প্রভাব ও হস্তক্ষেপের কারণে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের আর্থিক ও প্রশাসনিক দুর্বলতা দূর করতে পৃথক ও পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল আয়োজিত ‘আইনজীবীদের বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। তারা দাবি করেন, বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের অভাবে দেশে নানা সামাজিক সংকট ও মামলা জটিলতা বাড়ছে।
সেমিনারে সাবেক বিচারপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, দেশে এখনো অনেক দক্ষ ও মেধাবী বিচারক রয়েছেন। কিন্তু তাদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন মহলের প্রভাবের কারণে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এবং বিচার খাতে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব না দেওয়া হলে ভবিষ্যতে নতুন আন্দোলনের সৃষ্টি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে অ্যাডভোকেট আব্দুল রাজ্জাক আদালত অঙ্গনে দুর্নীতি ও ঘুষের বিস্তারের অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে এসব অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করতে হবে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক বাজেট বাস্তবায়নে বৃহত্তর জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন বলেন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগকে শক্তিশালী করার কিছু উদ্যোগ অতীতে নেওয়া হলেও সেগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়নি।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। তিনি বিচার বিভাগের জন্য পৃথক বাজেটের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব নয়। তিনি বিচার বিভাগের উন্নয়নে বাজেটে ১১টি পৃথক খাতে বরাদ্দের প্রস্তাবও তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক নেতারা সেমিনারে বক্তব্য দেন। বক্তারা বিচার বিভাগের সংস্কার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।






