বিয়ের ফাঁদে পাচার: পাকিস্তানের পর কি বাংলাদেশ টার্গেট?

এপি তদন্তে উঠে এসেছিল ৬২৯ পাকিস্তানি নারীকে চীনে নেওয়ার তথ্য; মানবপাচার নিয়ে উদ্বেগ।
টুইট প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর ২০১৯ সালের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০১৮ সাল থেকে ২০১৯ সালের প্রথম ভাগ পর্যন্ত পাকিস্তানের অন্তত ৬২৯ নারী ও তরুণীকে বিয়ের মাধ্যমে চীনে নেওয়া হয়েছিল। পাকিস্তানি তদন্তকারীদের প্রস্তুত করা একটি তালিকার ভিত্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের মেয়েদের লক্ষ্য করে স্থানীয় ও বিদেশি দালালচক্র কাজ করত। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনেক নারীকে চীনে নিয়ে যাওয়ার পর নির্যাতন, জোরপূর্বক সম্পর্ক এবং কিছু ক্ষেত্রে যৌন শোষণের অভিযোগ ওঠে। পাকিস্তানি তদন্ত সংস্থাগুলো এ বিষয়ে একাধিক অভিযানও পরিচালনা করে।
এপি জানিয়েছিল, পাকিস্তানি তদন্তকারীদের তালিকায় থাকা অধিকাংশ বিয়ে ২০১৮ সাল থেকে ২০১৯ সালের এপ্রিলের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল। তদন্তে চীনা ও পাকিস্তানি দালালদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে আসে।
তবে চীনের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছিল। ইসলামাবাদে চীনা দূতাবাস সে সময় এপি প্রতিবেদনের তথ্যকে ‘সত্য নয়’ বলে দাবি করে এবং অবৈধ দালালচক্রের বিরুদ্ধে সহযোগিতার কথা জানায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বিয়ে নিজে কোনো অপরাধ নয়। তবে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নিয়ে গিয়ে শোষণ, জোরপূর্বক শ্রম, যৌন নির্যাতন বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে তা মানবপাচারের আওতায় পড়ে।
বাংলাদেশে বর্তমানে চীনা নাগরিকদের মাধ্যমে সংগঠিত কোনো বৃহৎ বিয়ে-ভিত্তিক পাচারচক্রের প্রমাণিত সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। তবে মানবপাচারবিরোধী কর্মীরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন পরিচয় এবং বিদেশে বিয়ের প্রলোভনকে কেন্দ্র করে প্রতারণার ঝুঁকি রয়েছে। তাই বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে বিয়ে বা বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে পরিচয়, কাগজপত্র ও আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, সন্দেহজনক কোনো প্রস্তাব, দালালচক্রের তৎপরতা বা বিদেশে বিয়ের নামে অর্থ লেনদেনের ঘটনা দেখা গেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত।






