স্বাস্থ্যসচেতনতায় বাড়ছে কাঁচকলার চাহিদা, কৃষিতে নারী-পুরুষ মজুরিবৈষম্য উদ্বেগজনক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান: দেশে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে কাঁচকলা এখন জনপ্রিয় সবজিতে পরিণত হয়েছে। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে উৎপাদনও। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ‘ত্রৈমাসিক শস্য পরিসংখ্যান ও কৃষিশ্রমিকের মজুরি’ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে দেশে ২ লাখ ২৩ হাজার ৬৩১ মেট্রিক টন কাঁচকলা উৎপাদিত হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে ৩৯ হাজার ১৬ মেট্রিক টন।

এ সময়ে কাঁচকলা চাষের জমির পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ২৯ হাজার ২১ একর। পাশাপাশি ফলনও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর যেখানে একরপ্রতি উৎপাদন ছিল ৬ দশমিক ৩৭ টন, সেখানে এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৬৫ টনে।

কাঁচকলার পাশাপাশি আরও কয়েকটি সবজির উৎপাদনও বেড়েছে। মিষ্টিকুমড়া উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন, যা আগের বছরের তুলনায় ২৮ হাজার ৫২৭ টন বেশি। বরবটির উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ৪৯ টনে। এছাড়া কলমিশাক ও পাটশাকের উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

তবে কৃষি উৎপাদনে সুখবরের পাশাপাশি উদ্বেগ বাড়িয়েছে কৃষিশ্রমিকদের মজুরিবৈষম্য। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একজন পুরুষ কৃষিশ্রমিকের দৈনিক গড় মজুরি ছিল ৬২৫ টাকা, যেখানে নারী শ্রমিক পেয়েছেন ৪৬২ টাকা। অর্থাৎ নারী শ্রমিকরা পুরুষের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ কম মজুরি পেয়েছেন।

তিন বেলা খাবারসহ মজুরির ক্ষেত্রেও একই বৈষম্য দেখা গেছে। এ ক্ষেত্রে পুরুষ শ্রমিকের গড় মজুরি ছিল ৫২৩ টাকা, আর নারী শ্রমিক পেয়েছেন ৩৮৫ টাকা।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পুষ্টিকর সবজির উৎপাদন বৃদ্ধি দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক হলেও কৃষিখাতে নারী শ্রমিকদের মজুরিবৈষম্য দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।