নবজাতকের চিকিৎসা খরচ বহনে অস্বীকৃতি, প্রশ্নের মুখে মার্কিন বিমা ব্যবস্থা

যমজ শিশুর নিবিড় পরিচর্যা ব্যয়ের দাবি নাকচ, ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিভাবকরা
টুইট প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড হেলথ কেয়ারের বিরুদ্ধে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। যমজ নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (এনআইসিইউ) চিকিৎসা ব্যয়ের একটি অংশ বহন করতে অস্বীকৃতি জানানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি নবজাতক শিশুর নামে চিঠি পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন কৌতুকশিল্পী ও নবজাতক দুই কন্যাশিশুর বাবা ব্লেক ওয়েক্সলার সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে জানান, তাঁর যমজ কন্যাদের জন্মের পর চিকিৎসকদের পরামর্শে কিছুদিন এনআইসিইউতে রাখা হয়েছিল। পরে তিনি একটি চিঠি পান, যেখানে বিমা প্রতিষ্ঠানটি এক শিশুকে সম্বোধন করে লিখেছে,“প্রিয় বেবি গার্ল এ” এবং জানানো হয়েছে যে চিকিৎসা ব্যয়ের একটি অংশ কভার করা হবে না।
চিঠিটির ভাষা ও সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকা নবজাতকের চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিমা প্রতিষ্ঠানের এমন সিদ্ধান্ত কতটা গ্রহণযোগ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো ব্যবহারকারী নিজেদের অনুরূপ অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন।
ঘটনার পর বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অসংখ্য অভিভাবক অভিযোগ করেন, তাঁদের সন্তানদের ক্ষেত্রেও অক্সিজেন সহায়তা, খাওয়ানোর নল বা অন্যান্য জরুরি চিকিৎসা সেবা পাওয়ার পর বিমা দাবি নিয়ে জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কেউ কেউ জানিয়েছেন, আপিলের পর শেষ পর্যন্ত কভারেজ মিললেও দীর্ঘ সময় মানসিক চাপ সহ্য করতে হয়েছে।
স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থায় চিকিৎসা ব্যয়ের অনুমোদন ও দাবি নিষ্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ইউনাইটেডহেলথ গ্রুপ ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চিকিৎসা দাবি প্রত্যাখ্যান, অনুমোদন বিলম্ব এবং রোগীদের অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতায় ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
সাম্প্রতিক এই ঘটনা আবারও যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও মানবিকতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বিশেষ করে নবজাতকের নামে চিকিৎসা কভারেজ প্রত্যাখ্যানের চিঠি পাঠানোর বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জবাবদিহিতা নিয়ে বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।






