এক মণ ধানে মিলছে না শ্রমিক

ধুনটে বোরো চাষিদের হতাশা বাড়ছে
টুইট প্রতিবেদক: শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে, কিন্তু ধানের বাজারদর কম থাকায় বিপাকে পড়েছেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার কৃষকরা। বর্তমানে এক মণ ধানের দামে একজন শ্রমিকও মিলছে না বলে অভিযোগ তাদের।
ধুনট উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। মাঠজুড়ে পাকা ধান থাকলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। কারণ, বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকায়। অথচ একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দিতে হচ্ছে এক হাজার থেকে ১১০০ টাকা পর্যন্ত।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, একসঙ্গে অধিকাংশ জমির ধান পেকে যাওয়ায় শ্রমিক সংকট তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঝড়-বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা। ফলে দ্রুত ধান ঘরে তুলতে বাড়তি মজুরিতে শ্রমিক নিয়োগ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, মাঠের ধান দ্রুত কাটতে না পারলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু ধানের দাম কম আর শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় তারা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। উৎপাদন খরচও উঠছে না বলে জানান তিনি।
খাদুলী গ্রামের কৃষক ইলিয়াস হোসেন বলেন, হালচাষ, সেচ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক,সব খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। এখন ধান বিক্রি করে ঋণের টাকা শোধ করাও কঠিন হয়ে পড়বে।
ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৬ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি রয়েছে। তিনি কৃষকদের জমির ধান ৮০ শতাংশ পাকলেই কাটার পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষকেরা যেন তাদের কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়া প্রয়োজন।






