থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর-প্রধানমন্ত্রী

টুইট ডেস্ক: বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, থ্যালাসেমিয়া একটি জটিল বংশগত রক্তরোগ, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। এ রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো পরীক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ গ্রহণকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

শুক্রবার (৮ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিতা-মাতা উভয়েই থ্যালাসেমিয়ার জিন-বাহক হলে সন্তানের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে এখন থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এবারের বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস ২০২৬–এর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “আর আড়াল নয়: রোগ নির্ণয়হীনদের খুঁজে বের করি, অলক্ষ্যে থাকা রোগীদের সহায়তা করি”।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ থ্যালাসেমিয়ার জিন-বাহক বলে ধারণা করা হয়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার “প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম” নীতি অনুসরণ করছে এবং থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে এই নীতিই সবচেয়ে কার্যকর।

স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সরকার ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই কার্ড চালু হলে নাগরিকরা নিজেদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সহজে জানতে পারবেন এবং দেশের যেকোনো স্থানে চিকিৎসা নিলেও চিকিৎসকরা রোগীর প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, দুজন থ্যালাসেমিয়া জিন-বাহকের মধ্যে বিবাহ হলে সন্তানের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই এ বিষয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।

তিনি সকল পেশাজীবী, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গণমাধ্যম, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের থ্যালাসেমিয়া বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সবশেষে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।