ট্রাম্পের নাগরিকত্ব আবেদন স্থগিতাদেশ অবৈধ ঘোষণা করল আদালত

বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান ফেডারেল কোর্টের

টুইট ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নাগরিকত্ব আবেদন যাচাইয়ে স্থগিতাদেশকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত।

ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট-এর বিচারক জুলিয়া কোবিক রায়ে বলেন, এই নীতি বৈষম্যমূলক এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইনবিরোধী।

বিতর্কিত নীতির প্রেক্ষাপট

২০২৫ সালের নভেম্বরে ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ ৩৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ও অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে নাগরিকত্ব, গ্রিনকার্ড ও স্থায়ী বসবাসের আবেদনগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়।

এই নীতির আওতায় ইউএস

সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস আবেদন যাচাইয়ের সময় আবেদনকারীর জাতীয়তাকে ‘নেতিবাচক বিষয়’ হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

রায়ে বিচারক কোবিক উল্লেখ করেন, এই স্থগিতাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন এবং কংগ্রেসের নির্দেশনার পরিপন্থি। ফলে এ ধরনের নীতি কার্যকর রাখা আইনসঙ্গত নয়।

তিনি মামলার ২২ জন বাদীর ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে এই নীতি প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা দেন এবং বাকি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হবে কি না- সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনার নির্দেশ দেন।

মামলা ও প্রতিক্রিয়া

ইরান, হাইতি, ভেনেজুয়েলাসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০০ জন নাগরিক এই নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী জিম হ্যাকিং রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া অভিবাসন প্রক্রিয়া কঠিন করার এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়।”

রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট-এর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই রায়ের মাধ্যমে অভিবাসন নীতিতে প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা ও আইনের শাসনের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।