জ্বালানি সংকটে বিপাকে পল্লী প্রাণী চিকিৎসক ও খামারিরা

মোটরসাইকেলে চলাচল বন্ধ হওয়ায় ব্যাহত চিকিৎসাসেবা, বাড়ছে গবাদিপশুর মৃত্যুঝুঁকি।

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর: রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে জ্বালানি সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পল্লী প্রাণী চিকিৎসক, কৃত্রিম প্রজনন (এআই) টেকনিশিয়ান এবং গবাদিপশু খামারিরা।

জ্বালানি তেলের অভাবে মোটরসাইকেলে চলাচল করতে না পারায় মাঠপর্যায়ে সময়মতো সেবা দিতে পারছেন না চিকিৎসকরা। ফলে অসুস্থ গরু-ছাগলের চিকিৎসা বিলম্বিত হচ্ছে এবং মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক গরুর খামারের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই গবাদিপশু পালন করা হয়। এসব পশুর রোগব্যাধির ক্ষেত্রে পল্লী প্রাণী চিকিৎসকরাই প্রধান ভরসা। বিশেষ করে গাভীর কৃত্রিম প্রজননের জন্য এআই টেকনিশিয়ানদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের আদাহিন্না গ্রামের খামারি দুলাল জানান, তার একটি গাভী দুই দিন ধরে অসুস্থ থাকলেও বারবার যোগাযোগ করেও চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আলমপুর এলাকার গৃহস্থরাও। তাদের মতে, উপজেলা প্রাণী হাসপাতাল দূরে হওয়ায় স্থানীয় চিকিৎসকদের ওপর নির্ভর করতে হয়, কিন্তু জ্বালানি সংকটে তারাও অসহায়।

পল্লী প্রাণী চিকিৎসক সবুজ বলেন, প্রতিদিন বহু খামারি ফোন করছেন, কিন্তু মোটরসাইকেলে তেল না থাকায় সাড়া দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। “২০০ টাকার তেলের জন্য সারাদিন পাম্পে অপেক্ষা করতে হয়,” যোগ করেন তিনি।

এআই টেকনিশিয়ান মিলন জানান, গত ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে অনেক কল পেলেও জ্বালানি সংকটের কারণে কৃত্রিম প্রজনন সেবা দিতে যেতে পারছেন না।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, এটি বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব। তবে এখনো কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানাননি। অভিযোগ পেলে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত জ্বালানি সংকট নিরসন না হলে গ্রামীণ প্রাণিসেবা কার্যক্রম আরও ব্যাহত হবে এবং এতে কৃষি ও খামার খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।