রাজশাহীতে প্রশাসক রিটনের দ্রুত উদ্যোগে স্বস্তি: সেবায় ফিরছে আস্থা

প্রশাসক রিটনের সক্রিয়তায় স্বস্তি ফিরলেও দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট।

ব‌দিউল আলম লিংকন: নাগরিক ভোগান্তি কমাতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রেখে ইতিবাচক আলোচনায় রয়েছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক রিটন। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সমস্যার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ধারাবাহিকতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সড়কে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখায় পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা, জলাবদ্ধতা, অব্যবস্থাপনা এবং জনভোগান্তির একাধিক অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব বিষয়ে প্রশাসকের সরাসরি নজরদারি ও দ্রুত নির্দেশনার ফলে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নেমে সমস্যার সমাধান করছে। এতে নাগরিক দুর্ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন নতুন এক প্রশাসনিক ধারা তৈরি করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেওয়া বক্তব্য, নির্দেশনা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, “ভোগান্তি দেখলেই ব্যবস্থা” এখন বাস্তব কার্যক্রমে প্রতিফলিত হচ্ছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রাথমিক বক্তব্যেই প্রশাসক রিটন নগর ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নাগরিক ভোগান্তি কমানো, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, অবকাঠামোগত উন্নয়নে গতি আনা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠাই তার মূল লক্ষ্য। নিজেকে প্রশাসক নয়, বরং “রাজশাহীর একজন সেবক” হিসেবে পরিচয় দিয়ে নগরবাসীর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন।

পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশে জোর

রাজশাহী মহানগরে মশার উপদ্রব ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে প্রশাসক রিটনের বক্তব্যে স্পষ্ট অগ্রাধিকার উঠে এসেছে। তিনি ঈদের আগেই নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তুলতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশনা দেন। ড্রেনেজ ব্যবস্থা দ্রুত পরিষ্কার করা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সবুজায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন—মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নগরবাসীকে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করা হবে।

সেবায় কঠোরতা ও জবাবদিহি

নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রশাসক রিটন। মার্চের এক নির্দেশনায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতির কারণে সেবায় বিঘ্ন ঘটলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সময়মতো অফিসে উপস্থিতি এবং আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

মাঠপর্যায়ে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক দখল, নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা, ড্রেন বন্ধ হয়ে থাকা কিংবা জলাবদ্ধতার মতো সমস্যাগুলোতে প্রশাসক সরাসরি নজরদারি করছেন। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এই তৎপরতায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু এলাকায় চলাচলের প্রতিবন্ধকতা দূর হয়েছে এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমেছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

অংশীদারিত্বের আহ্বান

প্রশাসক রিটন নগর উন্নয়নে দল-মত নির্বিশেষে সম্মিলিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। নগরবাসীর প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ভুল বা সীমাবদ্ধতা থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিনি সহকর্মী হিসেবে উল্লেখ করে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসক রিটনের বক্তব্য ও কার্যক্রমের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকায় প্রশাসনের ওপর জনআস্থা বাড়ছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের এই ধারা বজায় থাকলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সেবা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে এই গতিশীলতা ধরে রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি, পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রশাসক রিটনের বর্তমান গতি ও তাৎক্ষণিক উদ্যোগ রাজশাহীতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। তবে এই ধারা টেকসই করতে হলে ব্যক্তিনির্ভরতা থেকে বের হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে শক্তিশালী করা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়ানো—এই তিনটি দিকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলেই “ভোগান্তি দেখলেই ব্যবস্থা” স্লোগানটি কেবল সাময়িক উদ্যোগে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি স্থায়ী সুশাসনের মডেলে রূপ নিতে পারবে।