দুই মাসে সরকারের গতি, জ্বালানি সংকটে প্রশ্নচিহ্ন

প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি, তবে বৈশ্বিক চাপ মোকাবিলায় বাড়ছে সমালোচনা।

টুইট ডেস্ক: দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পূর্ণ করল তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকার। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করা এ সরকারের প্রাথমিক সময়কালেই নানা উদ্যোগ বাস্তবায়নের চিত্র সামনে এসেছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় ইতিবাচক আলোচনা থাকলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দৃশ্যমান সাফল্যের অভাব নিয়ে সমালোচনাও বাড়ছে।

সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে আজ প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে সরকারের অর্জন, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে।

প্রথম ধাপের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক জনমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২১ দিনের মাথায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম চালু করা হয়।

এর পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক সম্মানি, খাল খনন কর্মসূচি এবং কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্তও ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।

প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে সরকারি অফিসের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শনিবারও অফিস কার্যক্রম চালু রাখা, কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময় উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমাতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব প্রটোকল কমিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হ্রাসের উদ্যোগও আলোচনায় এসেছে।

অর্থনীতি ও সামাজিক খাতে সরকার বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিল্প কারখানার বকেয়া পরিশোধ, বিদেশি বিনিয়োগে সহজ শর্ত, শিক্ষার্থীদের জন্য জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি, স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এবং ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মতো উদ্যোগ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্রীড়া খাতে নতুন কর্মসূচিও চালু হয়েছে।

তবে এসব অগ্রগতির মাঝেও জ্বালানি খাতে সংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক তেলের বাজার অস্থির থাকায় দেশে সরবরাহ সংকটের অভিযোগ উঠেছে। যদিও সরকার অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে, তবুও পাম্পে দীর্ঘ লাইনের মতো বাস্তবতা জনদুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের প্রাথমিক কার্যক্রমে ইতিবাচক ইঙ্গিত থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি সফলতা নির্ভর করবে সংকট ব্যবস্থাপনার ওপর। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস নিশ্চিত করা না গেলে অর্থনীতিতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরকারের দায়িত্বশীলরা বলছেন, বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও জনগণের ওপর চাপ না বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাদের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব উদ্যোগের বাস্তব ফলাফল দৃশ্যমান হবে।

সব মিলিয়ে দুই মাসের এই পথচলায় সরকারের কর্মতৎপরতা যেমন নজর কাড়ছে, তেমনি সামনে থাকা চ্যালেঞ্জও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আগামী মাসগুলোতেই নির্ধারিত হবে,এই অগ্রগতি টেকসই রূপ পায় কিনা।