শাহরাস্তিতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগ

শালিসের নামে টাকা নেওয়া, প্রতারণা ও হামলার অভিযোগ; ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলনে আইনি পদক্ষেপের দাবি।

টুইট প্রতিবেদক: চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

এসব অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলন করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শাহরাস্তি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন একাধিক ভুক্তভোগী। অভিযুক্ত আব্দুস সত্তার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান।

সংবাদ সম্মেলনে বিজয়পুর গ্রামের মো. আব্দুল মালেক অভিযোগ করেন, ২০১১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য আব্দুস সত্তার তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ধার নেন। নির্বাচনের পর তিন মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি তা পরিশোধ করেননি। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও দাবি করেন মালেক।

একই অনুষ্ঠানে নাহারা গ্রামের মোশাররফ হোসেন বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে আব্দুস সত্তার ও স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার মাধ্যমে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

কিন্তু সমস্যা সমাধান না করে উল্টো তার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।

বিধবা শাহিন বেগম অভিযোগ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর পাওয়া সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে গিয়ে তিনি আব্দুস সত্তারের কাছে যান। সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং টাকা ফেরত চাইলে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীরা জানান, এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা বিএনপি এবং শাহরাস্তি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে শালিসের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হলেও প্রকৃত কোনো সমাধান দেওয়া হয়নি। তারা অবিলম্বে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, আব্দুস সত্তার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালে ২০১৬ সালের ১৩ এপ্রিল দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী সাময়িকভাবে বরখাস্ত হয়েছিলেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুস সত্তারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।