বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসন বাছাই শুরু

প্রথম দিনে ৫ বিভাগে ৩৭৮ প্রার্থীর সাক্ষাৎকার, ত্যাগ ও যোগ্যতাকেই অগ্রাধিকার।
টুইট ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
শুক্রবার প্রথম দিনে পাঁচ সাংগঠনিক বিভাগের মোট ৩৭৮ জন নারী প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, যা দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় নতুন গতি সঞ্চার করেছে।
দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গুলশান কার্যালয়ে বিকেল থেকে এই সাক্ষাৎকার শুরু হয়। মনোনয়ন বোর্ডে উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির শীর্ষ নেতারা।
দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এই বোর্ডই চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।সাক্ষাৎকার শুরুর আগে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, প্রার্থীদের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, দলীয় ত্যাগ, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে।
এতে বোঝা যাচ্ছে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয় নয়,কার্যকর নেতৃত্বের যোগ্যতাও গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রথম দিনে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুর বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। আজ শনিবার চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে,যা পুরো প্রক্রিয়াকে জাতীয় পরিসরে সম্পন্ন করবে।
দলীয় সূত্র জানায়, সাক্ষাৎকারে প্রার্থীদের কাছে মূলত তিনটি বিষয় জানতে চাওয়া হচ্ছে,মনোনয়ন পেলে করণীয়, না পেলে অবস্থান এবং কেন দল তাকে
মনোনয়ন দেবে। এই প্রশ্নগুলোর মাধ্যমে প্রার্থীদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, আনুগত্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যাচাই করা হচ্ছে।
প্রার্থীদের প্রতিক্রিয়ায়ও উঠে এসেছে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার প্রবণতা। অনেকেই জানিয়েছেন, মনোনয়ন না পেলেও তারা দলের জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন। এতে দলীয় ঐক্য বজায় রাখার একটি স্পষ্ট বার্তা মিলছে।
এদিকে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে এই বৃহৎ পরিসরের সাক্ষাৎকার বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
একই সঙ্গে দলটি নারী নেতৃত্বের বিকাশে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, সেটিও এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে।






