ফিরছে হাম: টিকা ঘাটতি ও বৈশ্বিক শঙ্কা

বাংলাদেশে প্রাদুর্ভাবের আভাস; কোভিড-পরবর্তী টিকাদান ব্যাহতই প্রধান কারণ।
প্রায় নির্মূল হওয়া সংক্রামক রোগ হাম আবার বিশ্বজুড়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বাংলাদেশেও পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে,গত এক মাসেই সন্দেহজনক হামে ১৬৬ শিশুর মৃত্যু এবং ১৯ হাজারের বেশি আক্রান্তের তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে হামের সংক্রমণ এখন প্রাদুর্ভাবের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ওয়ার্ড ও নিবিড় পরিচর্যা সুবিধা প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর তথ্যমতে, উন্নত দেশসহ বিশ্বব্যাপী হাম আবার ফিরে আসছে।
সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, টিকাদানের হার কমে যাওয়াই এই পুনরুত্থানের মূল কারণ।
চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এর গবেষণাতেও ২০২৪-২০২৫ সালে গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রাদুর্ভাবের তথ্য উঠে এসেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় বিশ্বজুড়ে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে।
ফলে বহু শিশু নির্ধারিত সময়ের টিকা পায়নি। একই সঙ্গে কিছু দেশে টিকাবিরোধী প্রচারণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি নিয়মিত না হওয়ায় বহু শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে।
টিকা সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্ব পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, ২০২৩ সালে ৫৭টি দেশে বড় ধরনের হাম প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। আফ্রিকা অঞ্চলেই এর প্রায় অর্ধেক সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশটি ২০০০ সালে হাম নির্মূল ঘোষণা করলেও টিকা না নেওয়া ভ্রমণকারীদের কারণে এখনও সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে।
২০২৫ সালের শুরুতে দেশটির ১৭টি অঙ্গরাজ্যে ৩৭৮টি সংক্রমণ ও দুটি মৃত্যুর ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কোভিড-পরবর্তী টিকা ঘাটতি পূরণ করা।
পাশাপাশি টিকার কার্যকারিতা হ্রাস বা ভাইরাসের নতুন ধরন তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়েও গবেষণা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত টিকাকে অকার্যকর করে এমন নতুন ভ্যারিয়েন্টের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে।
গত ৫ এপ্রিল থেকে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত টিকাদান কভারেজ বাড়ানো না গেলে হাম আবারও বড় আকারের মহামারিতে রূপ নিতে পারে,যা গত দুই দশকের অর্জনকে মারাত্মকভাবে পিছিয়ে দেবে।





