বান্দরবানে বন উজাড়, পানির সংকটে পাঁচ ম্রো পাড়া

আলীকদম-থানচি সীমান্তে কাঠ পাচারের অভিযোগ; পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা।

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান: বান্দরবানের দুর্গম আলীকদম–থানচি সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক বন উজাড় ও কাঠ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এতে পাহাড় কাটা, ঝিরির পানি প্রবাহ বন্ধ এবং জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে অন্তত পাঁচটি ম্রো পাড়ায় তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

পাহাড় কেটে রাস্তা, বন্ধ ঝিরির পানি প্রবাহ

সরেজমিনে দেখা গেছে, পোলা ব্যাঙ ঝিরির স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ করে স্ক্যাভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে ট্রাক চলাচলের রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে গর্জন, চম্পা, কড়ই, বৈলাম ও চাপালিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় গাছের গুঁড়ি স্তূপ করে রাখা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, যন্ত্রচালিত করাত দিয়ে গাছ কেটে জোত পারমিটের আড়ালে অধিকাংশ কাঠ পাচার করা হচ্ছে। কিছু কাঠ স্থানীয় অবৈধ ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

পানির সংকটে পাঁচ ম্রো পাড়া

চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের পামিয়া ম্রো পাড়া, তন্তুই পাড়া, নামচাক পাড়া, কাকই পাড়া ও আদুই পাড়ার শতাধিক পরিবার এখন তীব্র পানির সংকটে রয়েছে। ব্যাঙঝিরি শুকিয়ে যাওয়ায় খাবার পানির পাশাপাশি মাছ ও কাঁকড়ার মতো প্রাকৃতিক খাদ্য উৎসও বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, দুই বছর আগেও এলাকায় ঘন বন ও বন্যপ্রাণীর বিচরণ ছিল। বর্তমানে বন উজাড়ের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, আবুহান মোহাম্মদ ইসমাইলের নেতৃত্বে একটি চক্র প্রায় দুই বছর ধরে এ কার্যক্রম চালাচ্ছে। শ্রমিকদের দিয়ে নিয়মিত গাছ কেটে প্রতিদিন ট্রাকে করে কাঠ পরিবহন করা হচ্ছে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি কেনার পরও তার চেয়ে অনেক বেশি এলাকায় গাছ কাটা হচ্ছে।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনের নেতারা বলছেন, সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা ছাড়া দীর্ঘদিন এ ধরনের বন উজাড় সম্ভব নয়।

তৈন রেঞ্জ কর্মকর্তা খন্দকার আরিফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন, তবে সরেজমিন তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানও তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।

পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড় কাটা ও বন উজাড়ের ফলে শুধু স্থানীয় পরিবেশ নয়, পুরো পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়তে পারে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।