রবীন্দ্রনাথের জীবনবোধে নতুন স্বপ্নের প্রেরণা

বিধ্বস্ত সময়ে রবীন্দ্রসৃষ্টির দিকে ফিরে তাকানোর আহ্বান মামুনুর রশীদের; ময়মনসিংহে কবির আগমনের শতবর্ষ উদ্‌যাপন।

টুইট প্রতিবেদক: দেশের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনবোধ ও সৃষ্টিকর্ম মানুষকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার প্রেরণা জোগায় বলে মন্তব্য করেছেন নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ।

তিনি বলেন, আজকের এই বিধ্বস্ত বাংলাদেশে যখন মানুষের স্বপ্নগুলো প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে, তখন রবীন্দ্রনাথকে নতুন করে স্মরণ করা প্রয়োজন। তাঁর সময় ও জীবনদর্শনের দিকে তাকালে বোঝা যায়, একজন মানুষ কতটা মহৎ হতে পারেন। রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি ও জীবনবোধ আমাদের নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখায়।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ময়মনসিংহে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আগমনের শতবর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

‘রবীন্দ্র-আলোয় ময়মনসিংহ: শতবর্ষে ফিরে দেখা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের ময়মনসিংহ শাখা। নগরের টাউন হলের অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি মিলনায়তনে বিকেল সাড়ে ৪টায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শত কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। রবীন্দ্রসংগীতের সুরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজনস্থল।

উল্লেখ্য, ১৯২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ময়মনসিংহ সফর করেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর সেই ঐতিহাসিক আগমনের শতবর্ষ স্মরণে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের ময়মনসিংহ শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহ্ মো. আতিকুল হক। এ সময় ‘অস্মিত রবীন্দ্রনাথ’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

পাশাপাশি ‘ময়মনসিংহে রবীন্দ্রনাথের আগমনের শতবর্ষ: তাৎপর্য ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রীতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি আবু সাঈদ।

আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক স্বপ্ন ধর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জয়নাল আবেদীন খান, আনন্দ মোহন কলেজের অধ্যাপক বিমল কান্তি দে, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের সহসভাপতি অধ্যাপক মঞ্জুরুল আলম এবং সংগঠনটির সভাপতি মফিদুল হকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

আয়োজনের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, সংগীত ও জীবনদর্শনের চর্চা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।