৬২ লাখ টাকা বরাদ্দ, এক বছরেও শেষ হয়নি সড়কের কাজ

খোয়া ছড়িয়ে বেহাল সড়ক, দুর্ভোগে ২৫ গ্রামের মানুষ

তারাগঞ্জ প্রতিনিধি: সরকার হামার ভাঙা রাস্তা ভালো করার জন্য বরাদ্দ দেইল। কাজ শুরু হওয়ায় মনে হইল, এবার বুঝি হামার দুঃখ কমবে। কিন্তু রাস্তা খুঁড়ি খোয়া ফেলে থুইয়া রাখছে। খোয়ার ওপর দিয়া খালি পায়ে হাঁটা চলাও মুশকিল। এক বছর থাকি এই রাস্তা দিয়া কষ্ট করি চলছি। সরকার হামার কষ্ট দূর করার জন্য টাকা বরাদ্দ দিল, কিন্তু সরকারি অফিসের অবহেলায় এক বছরেও কাজ শেষ হইল না। হামরা আর কত দিন এভাবে কষ্ট করমো?’

আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার বুড়িরহাট এলাকার ভ্যানচালক মতিয়ার রহমান। শুধু তিনি নন, তাঁর মতো এলাকার হাজারো মানুষ প্রতিদিন খোয়া ছড়ানো সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা জানান, দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শেখেরহাট, তেলিপাড়া, চিলাপাক, প্রামাণিক পাড়া, কাংলাচড়া, কাজীপাড়া, দামোদরপুর, দোলাপাড়া ও মাটিয়াল পাড়াসহ আশপাশের অন্তত ২৫টি গ্রামের মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন।

বুড়িরহাট দোলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়া যাতায়াত করতে হয়। ভ্যান-অটোরিকশার ঝাঁকুনিতে শরীর ব্যথা হয়ে যায়। রাস্তার খোয়া আর উঁচু-নিচুর জন্য গাড়িতে ঠিকমতো বসাও যায় না। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়া যাওয়ার সময় মনে হয়, কখন গাড়ি উল্টি যায়। রাস্তার কাজ শুরু হওয়ায় ভাবছিলাম, এবার বুঝি কষ্টের দিন শেষ হবে। কিন্তু এক বছর পার হলেও কাজ শেষ হলো না।’

তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বুড়িরহাট-শেখেরহাট সড়কের ২ হাজার ২৫০ মিটার অংশ সংস্কারের কাজ নির্ধারিত সময়ের ছয় মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি। এক দফা সময় বাড়ানো হলেও কাজ সম্পন্ন হয়নি। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রয়েছে খোয়া। কোথাও মাটি ও খোয়ার স্তর অসমান। ফলে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।

চিলাপাক প্রামাণিক পাড়া গ্রামের মাদ্রাসাশিক্ষক মাওলানা আব্দুল বারী বলেন, সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী ভেবেছিলেন, এবার তাঁদের দুর্ভোগ কমবে। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় সেই আশা পূরণ হয়নি। সড়কের বিভিন্ন স্থানে খোয়া ছড়িয়ে আছে। কোথাও মাটি ও খোয়ার স্তর অসমান। ফলে হেঁটে চলাচলের পাশাপাশি যানবাহন চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বুড়িরহাট-শেখেরহাট সড়কের বিভিন্ন অংশে খোয়া ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের স্তর অসমান। এসব অংশ দিয়ে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ শেষ না হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে সড়ক ব্যবহারকারীদের দুর্ভোগ।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুড়িরহাট-শেখেরহাট সড়কের ২ হাজার ২৫০ মিটার অংশ সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬২ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৪ টাকা। জিওবিএম প্রকল্পের আওতায় কাজটি পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাহমুদ আলী সরকার।

কার্যাদেশ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি কাজ শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল ৪ এপ্রিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় এক দফা সময় বাড়ানো হয়। তবে বর্ধিত সময়সীমা সম্পর্কে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এখনো অবগত নয়। বরাদ্দের অর্থে সংস্কারকাজ শুরু হলেও দীর্ঘ সময় পরও সড়কটি পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী হয়নি। এতে কাজের অগ্রগতি ও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ না হওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদার মাহমুদ আলী সরকার বলেন, ‘কাজটা গতবছর জুন মাস পার হয়া গেছে। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, যার কারণে কাজটা করা হয়নাই, এবার হবে।’ তবে কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি।

উপজেলা প্রকৌশলী নাফিউর রহমান বলেন, সড়কটির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গেও কথা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।