গঙ্গায় নৌকাডুবিতে শিশুসহ নিহত ১৩

টুইট ডেস্ক : ভারতের বিহার রাজ্যের বৈশালী জেলায় গঙ্গা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাঘোপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নৌকাটিতে ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁরা একটি ভোজসভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। নিহতদের অধিকাংশই শিশু বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সরকারি কর্মকর্তাদের একটি দল। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। নিখোঁজদের সন্ধানে স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকর্মীদের সহযোগিতা করছেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। নিহতদের পরিবারকে চার লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার কথা জানান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দুর্ঘটনাটিকে হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানান।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও নিহতদের পরিবারপ্রতি দুই লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি। মোদি বলেন, বৈশালীতে নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণহানি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এ কঠিন সময়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি তাঁর সমবেদনা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তায় স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। রাঘোপুর দিয়ারা এলাকায় নৌকাডুবির খবরকে মর্মান্তিক উল্লেখ করে তিনি উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা দ্রুত নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণনও প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার শক্তি অর্জনের কামনা করেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের জন্য প্রার্থনা করেন তিনি।

নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে কী কারণে নৌকাটি ডুবে গেল এবং এখনো কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযান শেষে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা ও দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।