নাগরিকত্ব সংশোধন আইনে বাংলাদেশি হিন্দু শরণার্থীদের সনদ দেওয়ার আশ্বাস

মতুয়া সম্প্রদায়ের আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

টুইট ডেস্ক : বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের আওতায় নাগরিকত্বের সনদ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মতির ভিত্তিতে এ প্রক্রিয়া এগোচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বনগাঁয় দুর্গাপূজার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আশ্বাস দেন। নাগরিকত্বের সনদ পাওয়া কিংবা ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের সমস্যায় পড়তে হবে না বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

বনগাঁ ও নদিয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় মতুয়া সম্প্রদায়ের বসবাস। বাংলাদেশ থেকে আসা এই সম্প্রদায়ের বহু মানুষের নাগরিকত্বের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বিজেপি নেতারাও বিভিন্ন সময়ে তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তবে কতজন আবেদনকারী ইতিমধ্যে নাগরিকত্বের সনদ পেয়েছেন, কতজনের আবেদন বিবেচনাধীন রয়েছে এবং নতুন করে কতজনকে সনদ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান দেননি শুভেন্দু অধিকারী।

অনুষ্ঠানে দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলন নিয়েও কথা বলেন তিনি। আন্দোলনকারীদের একাংশকে কটাক্ষ করে তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতকে দুর্বল করার চেষ্টার অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে নকশালদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বনগাঁ এলাকার সরকারি সহায়তা ও উন্নয়ন নিয়েও বক্তব্য দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এলাকার ৭২ হাজার নারী অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় মাসে তিন হাজার টাকা করে পাচ্ছেন। যারা এখনো এই সুবিধার জন্য আবেদন করেননি, তাঁদের আবেদন করার আহ্বান জানান তিনি।

এ ছাড়া বনগাঁয় শিল্প স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এলাকায় শিল্প গড়ে উঠলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি উপকৃত হবে।

নাগরিকত্বের সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়া কত দ্রুত এগোবে, তা নির্ভর করবে আবেদন যাচাই ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর।