মারিবে সেনা-হুথি ভয়াবহ সংঘাত, নিহত ৮০-এর বেশি

টুইট ডেস্ক: ইয়েমেনের মারিব শহরের কাছে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথি যোদ্ধাদের প্রায় ২৪ ঘণ্টার সংঘাতে ৮০ জনের বেশি হুথি যোদ্ধা নিহত হওয়ার দাবি করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী। সংঘাতে হুথিদের নয়টি সামরিক যান ধ্বংস হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
ইয়েমেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারিব প্রদেশের রাজধানী মারিব সিটির কাছে সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত হয়েছে। ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর দাবি, প্রায় ২৪ ঘণ্টার এই সংঘাতে ৮০ জনের বেশি হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আল-হাতেমি জানান, শনিবার রাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত সংঘাত চলে। এতে হুথিদের নয়টি সামরিক যান ধ্বংস করা হয়েছে। সংঘাতের একপর্যায়ে বেশ কয়েকজন হুথি যোদ্ধা পালিয়ে যায় বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, মারিব শহরে স্থল সংঘাতের পাশাপাশি প্রদেশজুড়ে বিমান অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় হুথিদের সামরিক স্থাপনা ও যোদ্ধাদের সমাবেশস্থল লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তবে সরকারি বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
দীর্ঘদিনের ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে মারিব অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক মানুষ এই প্রদেশের বিভিন্ন শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে প্রদেশের বিভিন্ন অংশে প্রভাব বিস্তার করলেও মারিব শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি হুথিরা।
২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হুথিরা রাজধানী সানাসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরের বছর সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘাত আরও তীব্র হয়। ২০২২ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও গত জুলাইয়ের শেষ দিকে আবারও সংঘাত বাড়তে শুরু করে।
এদিকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা, আমরান ও হোদেইদায় শনিবার অন্তত ৫০ জন হুথি যোদ্ধা ও কর্মকর্তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ইয়াহিয়া আল-হাতেমির দাবি, হুথিরা প্রকাশ্যে যে প্রাণহানির তথ্য জানায়, তা তাদের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় অনেক কম। তবে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হওয়ার যে দাবি তিনি করেছেন, তার স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।






