নিলামে বিক্রীত সম্পত্তির ওপর ভ্যাট অবৈধ: হাইকোর্ট

অর্থঋণ আদালতের বিচারিক নিলামে কেনা স্থাবর সম্পত্তির মূল্যের ওপর ভ্যাট আরোপের নির্দেশ আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত বলে রায়
টুইট ডেস্ক: অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক নিলামে বিক্রি হওয়া স্থাবর সম্পত্তির ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপ অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিলাম ক্রেতার কাছ থেকে ওই ভ্যাট আদায়ের জন্য অর্থঋণ আদালতের দেওয়া নির্দেশের কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই বলেও ঘোষণা করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল ও সম্পূরক রুল চূড়ান্ত করে এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন নিলাম ক্রেতাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, একটি ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের কার্যকরী মূলধন ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অর্থঋণ আদালতে মামলা করে। পরবর্তী সময়ে অর্থঋণ জারি মামলায় অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৩৩(১) ধারার অধীনে বন্ধকি সম্পত্তিটি নিলামে তোলা হয়।
নিলামে আবেদনকারীরা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ২৪ কোটি টাকায় সম্পত্তিটি কিনে নেন। তাঁদের দর অনুমোদনের পর তাঁরা সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করেন। পরে অর্থঋণ আদালত নিলামমূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও প্রযোজ্য স্ট্যাম্প শুল্ক জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
ওই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে নিলাম ক্রেতারা হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। গত ৮ এপ্রিল হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ বিষয়ে রুল জারি করে এবং রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভ্যাট ও স্ট্যাম্প শুল্ক জমা দেওয়ার নির্দেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন।
পরবর্তী সময়ে রুলের শুনানি শেষে বিচারপতি সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি জিয়াউল হকের বেঞ্চ রুলটি চূড়ান্ত ঘোষণা করেন।
রায়ে আদালত বলেন, নিলাম ক্রেতাদের নিলামমূল্যের ওপর উৎসে ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে অর্থঋণ আদালত যে আদেশ দিয়েছিল, তা আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূতভাবে দেওয়া হয়েছে এবং এর কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই।
আদালত আরও বলেন, বিতর্কিত প্রজ্ঞাপনের যে অংশে স্থাবর সম্পত্তির ক্রেতাকে ‘পণ্যের নিলাম ক্রেতা’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সেই অংশও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও কার্যকারিতাহীন।
আইনজীবীদের মতে, এই রায়ের ফলে অর্থঋণ আদালতের বিচারিক নিলামের মাধ্যমে কেনা স্থাবর সম্পত্তির মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের সুযোগ থাকছে না। একই সঙ্গে সংসদ কোনো সম্পত্তির বিক্রয় বা হস্তান্তরকে আইন দ্বারা ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দিলে অধস্তন বা অর্পিত আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নতুন করে ওই সম্পত্তির ওপর করের দায় সৃষ্টি করা যাবে না—হাইকোর্টের এ পর্যবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আইনজীবীরা মনে করছেন, রায়টি দেশের বিভিন্ন অর্থঋণ আদালতে ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য পরিচালিত বিচারিক নিলাম এবং নিলামের মাধ্যমে স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।






