জোট নয়, একক লড়াইয়ের প্রস্তুতিতে এনসিপি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে উপজেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত সংগঠন শক্তিশালী করছে দল, চলছে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই

টুইট ডেস্ক: চলতি বছরের ডিসেম্বরে সম্ভাব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে মাঠে নেমেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কোনো রাজনৈতিক জোটের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব সংগঠন ও প্রার্থী নিয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন সম্ভব না হলে প্রাথমিকভাবে ১১ থেকে ১৫ সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে তা ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শুধু উপজেলা নয়, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও চলছে। ইতোমধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র পদে শতাধিক সমর্থিত প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেছে দলটি। শিগগিরই আরও প্রায় ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হতে পারে।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে দলের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি সুসংহত করা। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে প্রার্থী ও সংগঠন শক্তিশালী করার কাজ চলছে। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে ওয়ার্ড ও তৃণমূল পর্যায়ের কমিটি গঠনের কাজ দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং নতুনভাবে রাজনীতিতে আসার আগ্রহকে গুরুত্ব দিচ্ছে এনসিপি। পাশাপাশি উপজেলা নেতৃত্ব নির্বাচনে বয়সসীমা, নারী প্রতিনিধিত্ব এবং স্থানীয় ধর্মীয় ও জাতিগত বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, উপজেলা কমিটির আহ্বায়কের বয়স কমপক্ষে ৪০ বছর এবং সদস্যসচিবের বয়স অন্তত ৩০ বছর হতে হবে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত, গ্রহণযোগ্য ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের সক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, ইতোমধ্যে ১০০ জন সমর্থিত প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই আরও ১০০ জন প্রার্থীর তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। বর্তমানে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সংগঠন সম্প্রসারণের পাশাপাশি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড নির্বাচনের জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রস্তুতিও চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন দল হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এনসিপির জন্য একই সঙ্গে ঝুঁকি ও সম্ভাবনার পরীক্ষা। ভালো ফলাফল করতে পারলে তৃণমূলে দলের গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত বাড়তে পারে। বিপরীতে প্রত্যাশিত ফল না এলে সাংগঠনিক দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

তবে ঝুঁকি বিবেচনায় রেখেও জোটের বদলে নিজেদের শক্তির ওপর নির্ভর করেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি। দলটির নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিটি এলাকায় নিজস্ব সংগঠন, প্রার্থী ও জনসমর্থনের ভিত্তিতে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।