ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা, শিশুসহ নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ফের সরাসরি সংঘাতে; পাল্টাপাল্টি হামলায় বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা
টুইট ডেস্ক: কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর আবারও সরাসরি হামলা-পাল্টা হামলায় জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে তেহরান। এর মধ্যেই ইরানের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলায় শিশুসহ পাঁচজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় এলাকা সিরিকের কাছে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলায় পাঁচজন নিহত ও প্রায় ৫০ জন আহত হন। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনার এক প্রতিবেদনে আহতের সংখ্যা ৬৮ বলে জানানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে বলে মেহর সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের দাবি, এসব হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সমুদ্রভিত্তিক সামরিক সরঞ্জাম, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা লক্ষ্য করা হয়।
পাল্টা জবাবে ইরান জর্ডান ও ইরাকে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে। বাহরাইনেও হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। তবে এসব হামলায় মার্কিন সেনা হতাহতের বিষয়ে ইরানের দাবির স্বাধীন কোনো নিশ্চিততা পাওয়া যায়নি।
জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে। এর মধ্যে ১০টি ভূপাতিত করা হয়েছে এবং তিনটি প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে পড়ে। বাহরাইনও ইরানের কয়েকটি চালকবিহীন বিমান শনাক্ত ও ধ্বংসের কথা জানিয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আরও দাবি করেছে, ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় এরবিলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন বিমান দিয়ে সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে। এতে কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে তারা। তবে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।
বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলায় ক্ষোভ
সিরিকের কাছে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র একই সঙ্গে মিনাব এলাকায় একটি মেয়েদের স্কুলে হামলার কথাও উল্লেখ করেছেন। ইরানের দাবি, যুদ্ধের প্রথম দিনে ওই হামলায় ১৬০ জন নিহত হয়েছিল। তবে এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
ইরান আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন সরকারকে সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের ঘটনায় নীরব থাকা কোনো নিরপেক্ষতা নয়। দেশটির যৌথ সামরিক কমান্ডও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে আরও ব্যাপক ও ধ্বংসাত্মক জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ফলে নতুন করে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক তৎপরতা বাড়লে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।






