অস্ট্রিয়ার চ্যালেঞ্জ, আর্জেন্টিনার পরীক্ষা

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা ইউরোপীয় দলটির সামনে এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বাধা।

টুইট প্রতিবেদক: ডালাসে আজ ‘জে’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে Argentina national football team ও Austria national football team। ম্যাচটি শুধু গ্রুপপর্বের আরেকটি লড়াই নয়; জয়ী দল প্রায় নিশ্চিতভাবেই পৌঁছে যাবে নকআউট পর্বে। তাই দুই দলের জন্যই এটি হতে যাচ্ছে উচ্চঝুঁকির এক পরীক্ষা।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর অস্ট্রিয়ার প্রত্যাবর্তন

অস্ট্রিয়া সর্বশেষ বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯৮ সালে। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিরে এসে তারা শুরু করেছে দারুণভাবে। প্রথম ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় রয়েছে দলটি।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে অস্ট্রিয়ার সেরা সাফল্য ১৯৫৪ সালে, যখন তারা তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল। এ পর্যন্ত আটবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ৩০ ম্যাচে ১৩ জয়, ৪ ড্র ও ১৩ হার তাদের ঝুলিতে রয়েছে।

‘ওয়ান্ডার টিম’ থেকে আধুনিক অস্ট্রিয়া

১৯৩০-এর দশকে অস্ট্রিয়া ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত ছিল। টানা সাফল্যের কারণে তাদের বলা হতো ‘ওয়ান্ডার টিম’। ১৯৩৪ বিশ্বকাপে তারা সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল।

বর্তমান অস্ট্রিয়া অবশ্য ভিন্ন ধরনের দল। উচ্চগতির প্রেসিং, সংগঠিত রক্ষণ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণই তাদের প্রধান শক্তি। এই দর্শনের মূল স্থপতি কোচ Ralf Rangnick।

রাংনিকের হাত ধরে নতুন উত্থান

২০২২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাংনিক অস্ট্রিয়াকে নতুন পরিচয় দিয়েছেন। আধুনিক ফুটবলে প্রেসিং কৌশলের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত এই জার্মান কোচ জাতীয় দলকে ইউরো ও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

তার অধীনে অস্ট্রিয়া শুধু ফলই করছে না, খেলছে আক্রমণাত্মক ও সাহসী ফুটবলও।

যাদের দিকে নজর থাকবে

অস্ট্রিয়ার সবচেয়ে বড় তারকা নিঃসন্দেহে David Alaba। রক্ষণভাগে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তার অভিজ্ঞতা দলের অন্যতম বড় সম্পদ।

মাঝমাঠে সৃজনশীলতার দায়িত্ব থাকবে Romano Schmid–এর ওপর। এছাড়া Konrad Laimer, Marcel Sabitzer এবং Marko Arnautović-এর মতো অভিজ্ঞ ফুটবলাররাও ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন।

আর্জেন্টিনার সঙ্গে পুরোনো স্মৃতি

দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার ইতিহাস খুব বেশি সমৃদ্ধ নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে তারা মাত্র দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছে। ১৯৮০ সালে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে Diego Maradona আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের একমাত্র হ্যাটট্রিক করেছিলেন। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৫-১ ব্যবধানে জয় পায়।

অন্যদিকে ১৯৯০ সালে দুই দলের শেষ সাক্ষাৎ ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। তখনও আর্জেন্টিনা ছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

ম্যাচের চিত্র কেমন হতে পারে?

কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনাই স্পষ্ট ফেবারিট। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্কোয়াডে রয়েছে অভিজ্ঞতা, গভীরতা এবং বড় ম্যাচ খেলার সামর্থ্য। তবে রাংনিকের অস্ট্রিয়া প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার ক্ষমতা রাখে।

বিশেষ করে মাঝমাঠের লড়াইয়ে অস্ট্রিয়া যদি আর্জেন্টিনাকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে, তাহলে ম্যাচটি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এবং বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকতার বিচারে আর্জেন্টিনাই এখনও এগিয়ে। এখন দেখার বিষয়, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে অস্ট্রিয়া কতটা বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে।