টাইপ-১ ডায়াবেটিস ঠেকাতে নতুন যুগ

উপসর্গ শুরুর আগেই রোগের অগ্রগতি বিলম্বিত করবে এনএইচএস অনুমোদিত প্রথম ওষুধ
টুইট ডেস্ক: টাইপ-১ ডায়াবেটিস চিকিৎসায় শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় অগ্রগতির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা (এনএইচএস)। প্রথমবারের মতো এমন একটি ওষুধ ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা টাইপ-১ ডায়াবেটিসের উপসর্গ শুরু হওয়ার সময় কয়েক বছর পর্যন্ত পিছিয়ে দিতে সক্ষম।
ওষুধটির নাম টেপলিজুম্যাব (বাণিজ্যিক নাম টিজিল্ড)। এটি একটি রোগপ্রতিরোধী চিকিৎসা পদ্ধতি, যা শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষের ওপর আক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। ফলে রোগের পূর্ণাঙ্গ লক্ষণ প্রকাশ এবং নিয়মিত ইনসুলিন নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা গড়ে তিন বছর পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা উৎকর্ষ জাতীয় প্রতিষ্ঠান (নাইস) মঙ্গলবার ওষুধটি ব্যবহারের সুপারিশ করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ের (দ্বিতীয় স্তর) টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত আট বছর বা তার বেশি বয়সী শিশু ও প্রাপ্তবয়স্করা এ চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১০৫ বছর ধরে ইনসুলিনই ছিল টাইপ-১ ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনার প্রধান ভরসা। টেপলিজুম্যাব সেই ধারার বাইরে গিয়ে রোগের মূল কারণ,প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া—লক্ষ্য করে কাজ করে। এ কারণে একে টাইপ-১ ডায়াবেটিস চিকিৎসার নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চিকিৎসা পদ্ধতি অনুযায়ী, রোগীকে টানা ১৪ দিন শিরায় ধীরে ধীরে ওষুধ প্রয়োগ করা হবে। এই একবারের কোর্স সম্পন্ন হওয়ার পর আর নিয়মিত ওষুধ গ্রহণের প্রয়োজন হয় না।
নাইসের ওষুধ মূল্যায়ন বিভাগের পরিচালক হেলেন নাইট এ সিদ্ধান্তকে “সত্যিকারের রোমাঞ্চকর অগ্রগতি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, প্রথমবারের মতো রোগীরা টাইপ-১ ডায়াবেটিসের পূর্ণ উপসর্গ ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার চাপের মুখোমুখি হওয়ার আগে মূল্যবান অতিরিক্ত সময় পাচ্ছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই চিকিৎসার সুবিধা পেতে হলে রোগটি উপসর্গ প্রকাশের আগেই শনাক্ত করতে হবে। এজন্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে আগাম পরীক্ষা ও শনাক্তকরণ কর্মসূচির গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে।
বর্তমানে ধারণা করা হচ্ছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রথম বছরে প্রায় ১,১০০ জন রোগী এ চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত বিবেচিত হবেন এবং পরবর্তী বছরগুলোতে প্রতিবছর প্রায় ৮০০ জন নতুন রোগী এর সুবিধা পেতে পারেন।
টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি কোনো চূড়ান্ত নিরাময় নয়, তবে রোগের অগ্রগতি বিলম্বিত করার মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও তাদের পরিবারের জন্য নতুন আশার দুয়ার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।






