উখিয়া সীমান্তে অভিযানে ১৯ রোহিঙ্গা আট

শিবিরের বাইরে অবৈধ চলাচল ও স্থানীয় পেশায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ, আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন।

টুইট প্রতিবেদক: কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৯ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা স্থানীয় একটি মাছের ঘেরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। আটক ব্যক্তিরা সবাই মিয়ানমারের নাগরিক এবং উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা।

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধীন বালুখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল উপজেলার বালুখালী সীমান্তের রহমতের বিল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবি জানিয়েছে, ঘটনাস্থলটি সীমান্ত পিলার বিপি-২০ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ১৯ জন পুরুষ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে শিবিরের বাইরে অবাধ চলাচল এবং স্থানীয় কর্মক্ষেত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অপরাধচক্র, চোরাচালান ও অন্যান্য অবৈধ নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, বিজিবির মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের থানায় আনা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।

সীমান্তে নজরদারি জোরদার

উখিয়া ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে রোহিঙ্গাদের কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, রোহিঙ্গা শিবিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় শ্রমবাজারে অবৈধ সম্পৃক্ততা প্রতিরোধে প্রশাসনের তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।