নাটোরে ৫ বছরের শিশু নির্যাতন মামলায় বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ঘটনার পরপরই শিশুটির মা বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় জালাল উদ্দিনকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেছি‌লেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক: নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে নির্যাতনের ঘটনায় জালাল উদ্দিন (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তৈয়ব আলী আজ বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ১২:৩০ মিনিটে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

২০২৩ সালের আগস্ট মাসে নাটোরের গুরুদাসপুর  উপজেলার লক্ষীপুর মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিকেলবেলায় শিশুটি নিজ বাড়ির আঙিনায় খেলছিল। এ সময় প্রতিবেশী জালাল উদ্দিন কৌশলে তাকে তার ঘরে নিয়ে যান এবং নির্যাতন করেন। শিশুটির কান্না ও শারীরিক অবস্থা দেখে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।

ঘটনার পরপরই শিশুটির মা বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় জালাল উদ্দিনকে একমাত্র আসামি করা হয়।

মামলাটি প্রথমে নাটোর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চলে। পরে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্কের পর আদালত আজ এই রায় দেন।

রায় ঘোষণার পর মামলার আইনজীবী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “দেশে শিশুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে চলছে। সরকার এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। আজকের রায় সেই নীতির প্রতিফলন। ভুক্তভোগী পরিবার যথাযথ বিচার পেয়েছে।”

রায় ঘোষণার পর কড়া নিরাপত্তায় দণ্ডিত জালাল উদ্দিনকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিশু সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাজের সকল স্তরের সচেতনতা ও দ্রুত আইনি পদক্ষেপের ওপর জোর দিচ্ছেন সচেতন মহল। আদালতের এই রায়কে অনেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ প্রতিরোধে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিবারের সদস্যরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।