বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি

চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার ওপরে, আকস্মিক বন্যার শঙ্কা।

টুইট প্রতিবেদক: শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা এলাকায় টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ি ঢল নেমে চেল্লাখালী ও ভোগাই নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

বুধবার ভোররাত থেকে বেলা পর্যন্ত দফায় দফায় বৃষ্টির কারণে তীব্র স্রোতে ঢলের সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে চেল্লাখালী নদীর গোল্লারপাড় এলাকায় একটি বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, চেল্লাখালী নদীর বাতকুচি পয়েন্টে পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে ভোগাই নদীর পানি নাকুগাঁও পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৫৩ সেন্টিমিটার নিচে এবং নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৪১৫ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত নালিতাবাড়ীতে ৯০ মিলিমিটার এবং নাকুগাঁওয়ে ১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বিকেল পর্যন্ত নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে ভাঙন ও আকস্মিক বন্যার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে বোরো চাষিরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, নিম্নাঞ্চলের কিছু জমি পানিতে তলিয়ে গেলেও ইতোমধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ বোরো ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

আগামী দিনে নতুন করে ভারী বর্ষণ না হলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকবে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।

দক্ষিণ রানীগাঁও গ্রামের কৃষক শামছুদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, তার তিন একর বোরো ফসল পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে। নদীর পানি আরও বাড়লে নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।