থাকসিনের মুক্তিতে নতুন সমীকরণ

দেড় দশকের নির্বাসন শেষে প্যারোলে মুক্ত সাবেক থাই প্রধানমন্ত্রী।

টুইট প্রতিবেদক:থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রভাবশালী রাজনীতিক থাকসিন সিনাওয়াত্রা অবশেষে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার সকালে ব্যাংককের ক্লোং প্রেম কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি।

এ সময় শত শত সমর্থক তাকে স্বাগত জানান। লাল পোশাক পরিহিত সমর্থকদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে কারাগার এলাকা।

৭৬ বছর বয়সী এই নেতা দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক নির্বাসনে থাকার পর ২০২৩ সালে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বার্থের সংঘাতসংক্রান্ত মামলায় দণ্ডিত হন তিনি। পরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আদালতের নির্দেশে কয়েক মাস কারাভোগের পর শেষ পর্যন্ত প্যারোলে মুক্তি পেলেন তিনি।

কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় থাকসিনকে বেশ প্রাণবন্ত দেখা যায়। সাদা পোশাকে বেরিয়ে আসা এই নেতাকে স্বাগত জানান তার মেয়ে ও রাজনৈতিক উত্তরসূরি পেটংটার্ন শিনাওয়াত্রা। আদালতের এক রায়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারানোর কিছুদিন পরই থাকসিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

মুক্তির পর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় থাকসিন বলেন, দীর্ঘদিন জনসম্মুখের বাইরে থাকার কারণে তার কাছে সময়টা যেন “ঘুমিয়ে থাকার” মতো মনে হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, মুক্ত পরিবেশে ফিরে স্বস্তি অনুভব করছেন।

গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে থাকসিনের শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার রাজনৈতিক অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে তার সমর্থিত ফেউ থাই পার্টি সর্বশেষ নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, থাকসিনের মুক্তি দেশটির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। নেপথ্যে থেকে তিনি আবারও দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও পর্যবেক্ষকদের মতে, সামনে তাকে অত্যন্ত সতর্ক কৌশলে এগোতে হবে।

জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার পায়ে ইলেকট্রনিক নজরদারি যন্ত্র পরিয়ে রাখা হবে।

সমর্থকদের দাবি, সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নে থাকসিনের অবদান এখনও দেশটিতে ব্যাপকভাবে স্মরণ করা হয়।