শ্রীলঙ্কার কারাগারে ভয়াবহ দাঙ্গা, নিহত ১৯

নেগোম্বো কারাগারে সংঘর্ষে শতাধিক আহত, অস্ত্রাগার দখল করে বন্দিদের তাণ্ডব।
বিশ্ব ডেস্ক: শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো কারাগারে দুই দল বন্দির মধ্যে সংঘর্ষ থেকে ভয়াবহ দাঙ্গায় অন্তত ১৯ জন নিহত এবং ১০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম মারাত্মক এই কারা দাঙ্গা দেশটির কারাগার ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুর প্রায় ১টার দিকে কারাগারের ভেতরে দুই দল বন্দির মধ্যে প্রথম সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে প্রাথমিকভাবে ২ জন নিহত এবং প্রায় ৩৮ জন আহত হন। রাতের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে আবার সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। দাঙ্গাকারী বন্দিরা রক্ষণাবেক্ষণ শেড থেকে সরঞ্জাম লুট করে কারাগারের প্রধান অস্ত্রাগারে হামলা চালায়। তারা আগ্নেয়াস্ত্র দখল করে নেয় এবং স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলি চালাতে শুরু করে।
দাঙ্গার সময় বন্দিরা কারাগারের রক্ষণাবেক্ষণ শেড থেকে বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট করে প্রধান অস্ত্রাগারে হামলা চালায় এবং আগ্নেয়াস্ত্র দখল করে নেয়। এরপর তারা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলি চালাতে শুরু করলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ সময় কারারক্ষীরাও পাল্টা গুলি চালায়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১৫ জন বন্দি এবং ৪ জন কারারক্ষী রয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০০ জনের বেশি। আহতদের নেগোম্বো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কারাগারের ভেতরে একটি শক্তিশালী বন্দি গোষ্ঠী মাদক পাচার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল। অন্য একটি গোষ্ঠী এর বিরোধিতা করলে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয় এবং তা দাঙ্গায় রূপ নেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সামরিক বাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযান চালানো হয়। বর্তমানে কারাগারটির নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের হাতে রয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে এবং কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও শ্রীলঙ্কা সরকারের বক্তব্য।






