ঘুষ-তদবির ছাড়াই পুলিশের চাকরি পেলেন ৩৩ তরুণ

মেধা ও স্বচ্ছ নিয়োগে বদলাচ্ছে পুলিশের চাকরি নিয়ে পুরোনো ধারণা।

টুইট প্রতিবেদক: ঝিনাইদহে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ৩৩ জন তরুণ-তরুণীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঘুষ, দালাল ও তদবির ছাড়া পুলিশের চাকরি পাওয়ার এই ঘটনায় নিয়োগপ্রাপ্তদের পরিবারে বইছে আনন্দের বন্যা। অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, আবার কারও কণ্ঠে ছিল দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের উচ্ছ্বাস।

রোববার ভোরে জেলা পুলিশ নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করলে নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। চাকরি পাওয়ার খবর শুনে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ব্যাপারীপাড়ার বাসিন্দা রিফাত হাসান ফোন করেন তার মাকে।

ছেলের কণ্ঠ শুনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মা রওশন আরা। ট্রাকচালক বাবা ও সেলাই কাজ করা মায়ের সংগ্রামী সংসারে এই চাকরি যেন নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।

শুধু রিফাতই নন, আরেফিন হাসান আবীর, রিপা খাতুনসহ আরও অনেক নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীর পরিবারেও দেখা গেছে আবেগঘন দৃশ্য। অধিকাংশ প্রার্থীই কৃষক, দিনমজুর, ট্রাকচালক কিংবা নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তান।

কেউ কেউ পিতৃহীন অবস্থায় কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে শূন্যপদ ছিল ৩৩টি। এসব পদের বিপরীতে আবেদন করেন ২ হাজার ৮৭ জন প্রার্থী।

শারীরিক সক্ষমতা যাচাই শেষে লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন ২৬৮ জন। পরে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৫৪ জন। সবশেষে মৌখিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা তালিকার ভিত্তিতে ৩৩ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে আরও পাঁচজনকে।

ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল বলেন, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

কোনো ধরনের তদবির বা অনিয়মের সুযোগ রাখা হয়নি। মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরাই নির্বাচিত হয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন স্বচ্ছতা তরুণদের মধ্যে আস্থা বাড়াবে এবং ঘুষনির্ভর পুরোনো সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে সহায়তা করবে।