ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে নারী নির্যাতন অভিযোগ

কার্ডের প্রলোভনে কুকর্মচেষ্টা। গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ বিএনপি নেতা বহিষ্কার, ৪৮ ঘণ্টায় তদন্ত নির্দেশ।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর: ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ভাংনী ইউনিয়নের এক স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মো. এনামুল হককে তাৎক্ষণিকভাবে দল থেকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা বিএনপি, পাশাপাশি গঠন করা হয়েছে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি।
অভিযোগ অনুযায়ী, এনামুল হক ভাংনী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন এবং বর্তমানে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। ভুক্তভোগী নারীর ভাষ্য, নির্বাচনী প্রচারণার সময় পরিচয়ের সূত্র ধরে এনামুল তাকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার আশ্বাস দেন।
গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) প্রথমে কার্ড বিতরণের তথ্য জানিয়ে বাড়িতে যান তিনি। পরে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে মোবাইল নম্বর নেওয়ার অজুহাতে আবারও ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে তিনি অনৈতিক প্রস্তাব দেন এবং একপর্যায়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে ওই নারী পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেন।
ভুক্তভোগী বলেন, “আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, আমি এর বিচার চাই।”
তার স্বামীর অভিযোগ, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত পক্ষ থেকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এনামুল হক। তার দাবি, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পরপরই উপজেলা বিএনপি জরুরি সিদ্ধান্তে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। একই সঙ্গে ভাংনী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হোসেনকে নিয়ে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় রাজনীতির আড়ালে প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। তবে নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে এমন ঘটনা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও বড় ধরনের ভাবমূর্তির সংকট তৈরি করে। দ্রুত তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত না হলে জনআস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।






