ঝড়ে থমকে সীতাকুণ্ড মহাসড়ক

 

গাছ উপড়ে পড়ে ঘণ্টাখানেক যান চলাচল বন্ধ, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে জনদুর্ভোগ চরমে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়াবহ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বর্ষণে সড়কের একাধিক স্থানে গাছ উপড়ে পড়ায় প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে, ফলে দূরপাল্লার যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে ছোট দারোগাহাট এলাকা এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সামনে হঠাৎ ঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে বড় বড় গাছ সড়কের ওপর ভেঙে পড়ে। এতে চট্টগ্রামমুখী লেনে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ঝড়ের গতি মুহূর্তেই বিপজ্জনক রূপ নেয় এবং চোখের পলকে গাছ ভেঙে পড়ে মহাসড়ক অচল করে দেয়। এতে শত শত যানবাহন মাঝপথে আটকা পড়ে যাত্রীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও ভোগান্তি বাড়তে থাকে।

কুমিরা মহাসড়ক থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, গাছ পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় দ্রুত অপসারণ কার্যক্রম শুরু করে। একই সময়ে কাছাকাছি আরেকটি স্থানে গাছ পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, দুটি স্থানে গাছ অপসারণে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। পরে ধীরে ধীরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ঝড়ের প্রভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ লাইনে গাছ পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দিনের বড় অংশজুড়ে এলাকাজুড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা দেখা দেয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে মেরামত কাজ চালিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

উপজেলা প্রশাসন বলছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প প্রস্তুতি জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে মহাসড়ক সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ গাছ চিহ্নিত করে আগাম অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর কালবৈশাখী মৌসুমে একই ধরনের ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাদের দাবি, পরিকল্পিত উদ্যোগ ছাড়া এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে না।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো আগাম অপসারণই পারে ভবিষ্যতে এমন অচলাবস্থা কমাতে।