মার্কিন যুদ্ধজাহাজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে

হরমুজে মাইন অপসারণ শুরু। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে, তেলবাণিজ্যে স্বস্তির ইঙ্গিত।
টুইট ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে সক্রিয় পদক্ষেপ শুরু করেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের দুটি গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ধ্বংসকারী যুদ্ধজাহাজ প্রণালি অতিক্রম করে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। এটিকে সম্ভাব্য মাইন অপসারণ অভিযানের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন সেন্টকম শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক ই. পিটারসন (ডিডিজি-১২১) এবং ইউএসএস মাইকেল মার্ফি (ডিডিজি-১১২) নিরাপদ নৌপথ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণালি অতিক্রম করেছে। সেন্টকমের কমান্ডার ব্র্যাড কুপার বলেন,
“নতুন নিরাপদ পথ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে, যা শিগগিরই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংশ্লিষ্টদের জানানো হবে।
যৌথ অভিযানের পর প্রথম সরাসরি অগ্রগতি
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করল। মার্কিন পক্ষের দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) প্রণালিতে নৌমাইন স্থাপন করেছে, যা আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ দেখা যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইসলামাবাদে আলোচনা চলাকালেই মাঠে যুক্তরাষ্ট্র
এই সামরিক পদক্ষেপটি এসেছে এমন সময়, যখন ইসলামাবাদ-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কূটনৈতিক সংলাপ, অন্যদিকে সামরিক উপস্থিতি—এই দ্বৈত কৌশল ওয়াশিংটনের চাপ প্রয়োগের অংশ হতে পারে।
এতে আলোচনার গতিপথ যেমন প্রভাবিত হতে পারে, তেমনি উত্তেজনা আরও বাড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
তেলের এক-পঞ্চমাংশের রুটে অস্থিরতা
হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বে সরবরাহকৃত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে।
সাম্প্রতিক মাইন আতঙ্কের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নিরাপদ নৌপথ পুনঃপ্রতিষ্ঠা হলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।
ড্রোনসহ আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে অভিযানে
মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, মাইন শনাক্ত ও অপসারণে শিগগিরই পানির নিচে পরিচালিত ড্রোনসহ (আন্ডারওয়াটার ড্রোন) উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। পুরো প্রণালি মাইনমুক্ত করতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে একটি স্পষ্ট ‘উচ্চঝুঁকির ভারসাম্য’ নির্দেশ করছে। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে। ফলে সামান্য ভুল হিসাবও বড় ধরনের সংঘাত ডেকে আনতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে জ্বালানি নির্ভর দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।






