২ হাজারের চামড়া বিক্রি ৫০০ টাকায়

সরকারি দর কাগজে, মাঠে ধস; লোকসানে মৌসুমি ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসা
টুইট ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনেও রাজধানীর পোস্তা কাঁচা চামড়ার আড়তে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচা ও সংরক্ষণের কার্যক্রম। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে করে চামড়া এনে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে আড়তগুলোতে। শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন চামড়ায় লবণ মেখে সংরক্ষণের কাজে। তবে পুরো বাজারে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে চামড়ার অস্বাভাবিক দরপতন।
সরকার নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে বাস্তব বাজারদরের বিস্তর ব্যবধান দেখা গেছে এবারও। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, যে বড় গরুর চামড়ার মূল্য প্রায় ২ হাজার টাকা হওয়ার কথা, সেই চামড়াই বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়। মাঝারি আকারের চামড়াও বিক্রি হচ্ছে সরকারি দরের অর্ধেকের কম দামে।
পোস্তা আড়ত ঘুরে দেখা যায়, সরবরাহ প্রচুর থাকলেও ক্রেতাদের আগ্রহ তুলনামূলক কম। ফলে চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী, মসজিদ-মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও সংগ্রাহকেরা। অনেকেই সরকারি মূল্য তালিকা ধরে চামড়া সংগ্রহ করলেও আড়তে এসে বাধ্য হচ্ছেন কম দামে বিক্রি করতে।
মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানান, পরিবহন ব্যয়, শ্রমিক খরচ ও লবণ দিয়ে সংরক্ষণের ব্যয় মেটানোর পর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি পিস গরুর চামড়ায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত কম দাম পাওয়া যাচ্ছে।
আড়তদারদের দাবি, ট্যানারি মালিকদের কাছে তাদের বিপুল অঙ্কের বকেয়া আটকে আছে। একই সঙ্গে ট্যানারি খাতে নগদ অর্থের সংকট থাকায় তারা চাহিদামতো চামড়া কিনতে পারছেন না। এতে বাজারে তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে এবং আড়তগুলোও সীমিত পরিসরে চামড়া সংগ্রহ করছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতি বছর সরকার কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করলেও বাস্তবায়নের কার্যকর তদারকি থাকে না। ফলে কোরবানির মৌসুমে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন এতিমখানা, মাদ্রাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ সংগ্রাহকেরা।
এবার ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার, যা গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বেশি। কিন্তু বাস্তব বাজারে সেই মূল্য কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
এদিকে ছাগলের চামড়ার বাজারেও দেখা গেছে চরম অনাগ্রহ। অনেক আড়তে ছাগলের চামড়া কিনতেই চাননি ব্যবসায়ীরা। ফলে বহু সংগ্রাহক কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন, আবার কোথাও কোথাও চামড়া অবিক্রীত থেকেছে।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ট্যানারি মালিকদের বকেয়া পরিশোধ, পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর তদারকি নিশ্চিত না হলে দেশের কাঁচা চামড়ার বাজারে এই অস্থিরতা আগামী বছরগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।






