পথচারীকে চাপা দিয়ে পালানো চালকের খোঁজে পুলিশ

ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭২ বছর বয়সী নারীর মৃত্যু; সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের দাবি পরিবারের
যুক্তরাষ্ট্রের রেডউড সিটি শহরে এক মর্মান্তিক ‘হিট-অ্যান্ড-রান’ ঘটনায় ৭২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন। ঘটনাটির পর চালক পালিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার যেমন বিচার দাবি করছে, তেমনি স্থানীয় বাসিন্দারাও ওই এলাকায় সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার রাত প্রায় ৯টা ৪৫ মিনিটে মিডলফিল্ড রোড ও বিচ স্ট্রিট সংলগ্ন এলাকায় হাঁটছিলেন ৭২ বছর বয়সী মারিয়া পেরেজ। এ সময় একটি সাদা রঙের পিকআপ ট্রাক তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর চালক ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, মারিয়া পেরেজ ছিলেন পরিবারের অত্যন্ত প্রিয় ও সহানুভূতিশীল একজন সদস্য। তার আকস্মিক মৃত্যু পরিবারকে গভীর শোকের মধ্যে ফেলেছে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, অপরাধী এখনও শনাক্ত না হওয়ায় তাদের ক্ষোভ ও মানসিক যন্ত্রণা আরও বেড়েছে।
এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট সড়কটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের অভিযোগ, ওই এলাকায় অনেক চালক অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান এবং পথচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করেন। ফলে গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্পিড ব্রেকার স্থাপন এবং ট্রাফিক নজরদারি বাড়ানোর দাবি উঠেছে।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা কর্মীরাও বলেছেন, সংশ্লিষ্ট মোড়ে প্রায়ই বেপরোয়া লেন পরিবর্তন ও ওভারটেকিংয়ের ঘটনা ঘটে। তাদের মতে, নগর কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণহানি রোধ করা যায়।
তবে ঘটনার তদন্তে পরে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও এবং স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ একটি সাদা টয়োটা টুন্ডা পিকআপ ট্রাককে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে। পরবর্তীতে ফ্রান্সিসকো গ্যালার্ডো আলভাজার নামের ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যানবাহনজনিত অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড এবং দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলমান। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী বা তথ্য জানা ব্যক্তিদের এগিয়ে এসে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিল, বেপরোয়া চালনা ও দুর্ঘটনার পর দায়িত্ব এড়িয়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কেবল আইনের লঙ্ঘনই নয়, বরং নিরীহ মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার মতো ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।






