চিম্বুক পাহাড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ম্রো পাড়ায় পানি সরবরাহের আশ্বাস পার্বত্যমন্ত্রীর

চিম্বুক রেঞ্জের ২৭ কিলোমিটার সড়কে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন সহস্রাধিক ম্রো সম্প্রদায়ের মানুষ; পর্যটন বিকাশ ও পাহাড়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।

বান্দরবান প্রতিনিধি: বাংলাদেশের সংকটময় মুহূর্তে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ধূমকেতুর মতো ত্রাতার ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিংপ্রু জেরী।

শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বান্দরবানের চিম্বুক রেঞ্জের ২৭ কিলোমিটার সড়কে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ৭ নভেম্বরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং এ উপলক্ষে সরকারি ছুটি নির্ধারণ করেছেন। ঐতিহাসিকভাবে দিনটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অত্যন্ত বেশি।

তিনি বলেন, চিম্বুক রেঞ্জের দুই পাশে ম্রো জনগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস। এখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তাঁর বাবা ম্রো কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের জন্য দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে। এতে চিম্বুক রেঞ্জের আশপাশের প্রায় সহস্রাধিক ম্রো সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নেন। এ ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

পার্বত্যমন্ত্রী আরও বলেন, বৃহত্তর পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটকদের আগমন বাড়লে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে। পাশাপাশি সমতল ও পাহাড়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে। আজকের উদ্যোগ সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি শুভ পদক্ষেপ।

পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে মন্ত্রী স্থানীয় কৃষকদের কফি প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় ম্রো পাড়াগুলোর পানির সংকট নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে পাড়াগুলোতে পানির ট্যাংক সরবরাহ করা হয়েছে। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও পানিবাহী ট্রাকের মাধ্যমে নিয়মিত পানি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সারা বছর এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু মানুষের দৈনন্দিন পানির চাহিদা পূরণ নয়, পাহাড়ের ফলজ বাগানগুলোতেও পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে এলাকার ঝিরিগুলো সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে সারা বছর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে কাজ করা হচ্ছে।

এ সময় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে মন্ত্রী রুমা উপজেলার লংবাইতং পাড়া বৌদ্ধবিহার প্রাঙ্গণে আয়োজিত সীমা বিহার উৎসর্গ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।