শ্রমিক আন্দোলনে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি পক্ষ: ইশরাক

আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা শ্রমিক আন্দোলনে মিশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্যের।

নিজস্ব প্রতিবেদক: শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনকে পুঁজি করে একটি পক্ষ রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর অভিযোগ, পতিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা শ্রমিক আন্দোলনে মিশে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদল আয়োজিত এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক মেয়র ও মন্ত্রী সাদেক হোসেন খোকার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়।

ইশরাক হোসেন বলেন, শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় অভিভাবক। তাই শ্রমিকদের তাঁর ওপর আস্থা রাখা উচিত।

শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আন্দোলনের শুরুতে আশুলিয়া এলাকায় ছাত্রলীগের এক পলাতক নেতাকে একাধিকবার দেখা গেছে। এ ছাড়া ছাত্রলীগের এক নারী কর্মীকে একাই ১৫টি গাড়ি ভাঙচুর করতে দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ইশরাক।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে শ্রমিকেরা পরিস্থিতি বুঝতে পেরে কর্মস্থলে ফিরে গেছেন। এ জন্য শ্রমিক ও নারী শ্রমিকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মন্ত্রিসভায় আট মাস কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইশরাক বলেন, শ্রমিকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ও দরদ তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। শ্রমিকদের ভাগ্য পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার সক্ষমতা তাঁর রয়েছে। ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বুধবার রাতে বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।

সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার স্মৃতিচারণা করে ইশরাক বলেন, তাঁর সবচেয়ে গর্বের পরিচয় তিনি একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। সাদেক হোসেন খোকা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি গোষ্ঠী বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ইশরাক বলেন, বিএনপি কোনো কারণে বিপদগ্রস্ত হলে বিরোধীদের পক্ষেও রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকা কঠিন হবে। ১৭ বছর ধরে লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপি নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেছে। আগামী দিনেও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে তা মোকাবিলা করা হবে।

তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শেখ হাসিনা একাধিকবার দেশে ফিরে আসার চেষ্টা করেছেন। প্রতিবারই বিএনপির সুসংগঠিত নেতা-কর্মীরা তা প্রতিহত করেছেন। ভবিষ্যতেও এ বিষয়ে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে ছাত্রদলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী থাকার পরামর্শ দেন।

বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, বিরোধী দল শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে পারে। লংমার্চসহ যেকোনো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার প্রশ্ন নেই। তবে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টাকে সমর্থন করা উচিত নয়।

সংসদে দেওয়া নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দলের অবস্থান থেকেও তাদের পতন ঘটানো হবে—সংসদে এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। সংসদীয় ভাষায় বক্তব্য দেওয়ায় অনেকে বিষয়টি নিয়ে হাসাহাসি করলেও এর অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝতে পারেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি শামম মাহমুদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক সরাফত আলী সাফু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন মনির, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাওলানা নেসার এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি এনাম মাহমুদসহ বিএনপি ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।