ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জবাব দেবে জনগণ: প্রধানমন্ত্রী

শিল্পকারখানায় হামলা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ তারেক রহমানের; শ্রমিকদের পাশে থাকার ঘোষণা, দুই মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের আশ্বাস।

টুইট ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে উচিত জবাব দেবে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে নির্বাচিত সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা সেই উদ্যোগ ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ ও শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে ষড়যন্ত্রকারীদের জবাব দিয়েছিল, আগামী দিনেও একইভাবে তাদের প্রতিহত করা হবে। দেশের খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে সব শক্তি দিয়ে ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত ১৫-১৬ বছরে যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং দেশের অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে তারা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শিল্পকারখানার নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিল-কারখানাগুলো দেশের মানুষের পাশাপাশি শ্রমিকদেরও সম্পদ। এসব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। বিশেষ করে শ্রমিকদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি বিবেচনায় নিয়ে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড কাজ শুরু করেছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার দেশের সমস্যা সমাধান, শিল্পের প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদারে দিনরাত কাজ করছে। বিএনপি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালু এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, একসময় খুলনা ছিল দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। কিন্তু নানা কারণে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে শুরু করে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায়। এর মাধ্যমে তরুণ ও যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা চালুর পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা হবে। দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়ানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

কাটাখালীতে পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।