আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে আদালতে পরীমণি

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন তিনি।

টুইট প্রতিবেদক: পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালত পরীমণির জামিন বাতিল করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। ওই আদেশের পর স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছেন পরীমণি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এদিন বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। অন্যদিকে পরীমণির আইনজীবী সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। পরে বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে পরীমণির জামিন বাতিল এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন আদালত।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি মামলাটিতে পরীমণির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। সেদিনও তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

প্রতিবেদনে পরীমণি ও তাঁর পোশাক পরিকল্পনাকারী জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

পরে আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমণি ও জিমকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। ২০২৪ সালের ২৫ জুন তাঁরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।

মামলার সূত্রপাত ২০২১ সালের ৬ জুলাই। ওই দিন সাভারের বোট ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। অন্য দুই আসামি হলেন ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।

মামলার অভিযোগে নাসির উদ্দিন দাবি করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে গিয়ে মদ্যপান করেন। পরে রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে ক্লাব ত্যাগের সময় তাঁকে ডেকে বসতে বলেন পরীমণি। একপর্যায়ে একটি দামি মদের বোতল বিনা মূল্যে দেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাসির উদ্দিনের দাবি, এতে রাজি না হওয়ায় পরীমণি তাঁকে গালমন্দ করেন এবং একপর্যায়ে একটি কাচের গ্লাস ও মুঠোফোন ছুড়ে মারেন। এতে তাঁর মাথা ও বুকে আঘাত লাগে। পাশাপাশি তাঁকে মারধর, হত্যার হুমকি এবং ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগও করেন মামলার বাদী।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরীমণি সাভার থানায় নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
তবে এসব অভিযোগ মামলার বাদীপক্ষের বক্তব্য। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।