নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক বিক্ষোভে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, আসামি ১ হাজার ৫২১

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ; অজ্ঞাতপরিচয় আসামি আরও ১ হাজার ৫০০!

টুইট ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১ হাজার ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোরে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শামীম হাসান (২৮), মো. মামুন (২৬), ওমর ফারুক (৩৮), ইমান ইমন (২৬), শাহিন আহম্মেদ ও আতিকুর রহমান (২৫)। তাঁদের নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে নাম থাকা অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোস্তফা কামাল, সদস্য মজিবর রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি টিপু সুলতান এবং যুবলীগ নেতা আজমত আলী, মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু ও রাকিব হোসেন।

গ্রেপ্তার ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি মাহবুব আলম। আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ জানান, রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। শুনানির আগে তাঁদের নারায়ণগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের করা মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকার উৎখাত ও দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বেতন বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে সংগঠিত করেন।

এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে এক থেকে দেড় হাজার শ্রমিক ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মামলার বাদী ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির এজাহারে উল্লেখ করেন, আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একাধিকবার চেষ্টা করে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার মধ্যে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও তাঁদের কথিত উসকানিদাতারা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ৮৩ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ফতুল্লার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলে।

শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভের ঘটনায় বড়সংখ্যক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়েরের বিষয়টি নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।