স্বর্ণ ডাকাতির ভাগ নিয়ে বিরোধ, মাগুরায় যুবদল নেতা হত্যার নেপথ্যে ২০ লাখ টাকা

১৫০ ভরি স্বর্ণ লুটের পর ভাগ না পেয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন নিহত শাকের; হত্যার পরিকল্পনায় ২০ লাখ টাকা পাঠানোর অভিযোগ মারুফের বিরুদ্ধে, গ্রেপ্তার ১১
টুইট প্রতিবেদক: মাগুরায় ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় লুট করা স্বর্ণের ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী হিসেবে মারুফ হোসেনের নাম উঠে এসেছে। হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদের ব্যাংক হিসাবে ২০ লাখ টাকা পাঠানোর অভিযোগও করেছে পুলিশ।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে মাগুরা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর মাগুরায় ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির পর লুট করা স্বর্ণ নিজের কাছে রেখে দেন মারুফ। এতে নিজের ভাগ না পেয়ে শাকের বারবার পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ বাড়তে থাকে।
একপর্যায়ে গোলাম জাহিদ উভয় পক্ষকে নিয়ে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেন। সেখানে শাকেরকে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। মারুফ ওই টাকা দিলেও শাকের তাতে সন্তুষ্ট হননি। তিনি স্বর্ণের ভাগ পাওয়ার দাবিতে অনড় থাকেন।
পুলিশ জানায়, শাকেরের অব্যাহত চাপের মুখে ক্ষুব্ধ হয়ে মারুফ তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গোলাম জাহিদের যমুনা ব্যাংকের হিসাবে ২০ লাখ টাকা পাঠানো হয়। এরপরই শাকেরকে হত্যার ঘটনা ঘটে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পৃথক দুটি মামলার তদন্তে ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতি ও শাকের হত্যার মধ্যে যোগসূত্র পেয়েছে পুলিশ। দুই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ডাকাতির স্বর্ণের অংশবিশেষ, গুলি ও খালি কার্তুজসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, গত ৬ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর বাজার এলাকায় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাসে পুলিশ পরিচয়ে ওঠে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র। পরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমানকে বাস থেকে নামিয়ে হলিনগর গ্রামের নিখিল মাস্টারের মেহগনিবাগানে নিয়ে যায় তারা। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও মারধর করে তাঁর কাছ থেকে ১৫০ ভরি স্বর্ণ এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। লুট হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
এ ঘটনায় করা মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ৯ ভরি ৭ আনা ৫ রতি ওজনের একটি তেজাবি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে। ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল ও একটি টয়োটা ভিটজ গাড়িও জব্দ করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে, গত ২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে মোটরসাইকেলে এসে শাকের হোসেনকে (৩৬) মাথায় গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী শারমিনাহার রুমা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে গুলি, খালি কার্তুজ এবং ৫১ দশমিক ৯ ভরি ওজনের পাঁচটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাতি ও হত্যা—পৃথক দুই মামলায় সব মিলিয়ে ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। এর ওজন ৭১৬ দশমিক ৪৬ গ্রাম। দুই মামলায় জড়িত থাকার বিষয়ে গ্রেপ্তার গোলাম জাহিদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) থান্দার খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযানগুলো পরিচালিত হয়। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।






