চট্টগ্রামে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ মহড়া, আঞ্চলিক নিরাপত্তায় সহযোগিতা জোরদার

র্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে শুরু ‘গার্ডিয়ান শার্ক’; খরস্রোতা পানিতে উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসায় ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে যৌথ প্রশিক্ষণ।

টুইট ডেস্ক: প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় উদ্ধার সক্ষমতা বৃদ্ধি, জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে পেশাগত সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ প্রশিক্ষণ মহড়া ‘গার্ডিয়ান শার্ক’ (Exercise Guardian Shark) শুরু হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) চট্টগ্রামে এ মহড়ার উদ্বোধন করা হয়। আগামী ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে।

মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন। এতে মূলত খরস্রোতা পানিতে উদ্ধার অভিযান (Swift Water Rescue) এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা ও মেডিকেল কেয়ারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপদগ্রস্ত মানুষের জীবন রক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ানোই এ প্রশিক্ষণের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা বাস্তবধর্মী পরিস্থিতির আদলে বিভিন্ন উদ্ধার কৌশল ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পদ্ধতি অনুশীলন করছেন। বিশেষ করে প্রবল স্রোতের পানিতে আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদে উদ্ধার, উদ্ধার অভিযানের সময় ঝুঁকি মূল্যায়ন, উদ্ধারকর্মীদের নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

খরস্রোতা পানিতে উদ্ধার অভিযান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম। বন্যা কিংবা অতিবৃষ্টির কারণে নদী ও জলাশয়ের পানি দ্রুত বেড়ে গেলে স্রোতের মধ্যে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করতে বিশেষ দক্ষতা, যথাযথ সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষিত জনবল প্রয়োজন হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনার দক্ষতা অর্জনে যৌথ প্রশিক্ষণটি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রশিক্ষণে উদ্ধার করা ব্যক্তিদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় মেডিকেল সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। দুর্যোগের সময় আহত ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এ দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ।

মহড়ায় দুই দেশের অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা, উদ্ধার কৌশল এবং কার্যকর অনুশীলন পদ্ধতি বিনিময় করছেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, পেশাগত দক্ষতা এবং যৌথভাবে কাজ করার সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত মিশন মুখপাত্র মারা বার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, “গার্ডিয়ান শার্ক মহড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তার অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এ ধরনের মহড়ার মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে এবং অবাধ, উন্মুক্ত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে তোলার অভিন্ন লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।”

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ‘গার্ডিয়ান শার্ক’ মহড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণকারী সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়, যৌথ পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা বাড়বে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা ও জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানে অর্জিত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কাজে আসবে।

আগামী ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এ যৌথ প্রশিক্ষণ মহড়া দুই দেশের মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলা ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।