নাসায় নেতৃত্বে পাবনার মেয়ে মাহমুদা সুলতানা

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার গডার্ড মহাকাশ উড্ডয়ন কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন মাহমুদা সুলতানা; ন্যানোপ্রযুক্তি নিয়ে তাঁর গবেষণা ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার ঈশ্বরদীতে জন্ম নেওয়া মাহমুদা সুলতানা কৈশোরে পরিবারের সঙ্গে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখান থেকে শুরু হয় তাঁর উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার যাত্রা। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার গডার্ড মহাকাশ উড্ডয়ন কেন্দ্রে ভবিষ্যৎ মহাকাশ প্রযুক্তির উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই বিজ্ঞানীর সাফল্য আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণায় নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কৈশোরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় যাওয়ার পর মাহমুদা সুলতানা উচ্চশিক্ষায় মনোযোগী হন। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে রাসায়নিক প্রকৌশল ও গণিতে সর্বোচ্চ সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ভর্তি হন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে। ২০১০ সালে সেখান থেকে রাসায়নিক প্রকৌশলে পিএইচডি সম্পন্ন করেন তিনি।
একই বছর পিএইচডি শেষ করে নাসার গডার্ড মহাকাশ উড্ডয়ন কেন্দ্রে যোগ দেন মাহমুদা। এরপর থেকে মহাকাশ গবেষণার জন্য উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
ন্যানোপ্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা
মাহমুদা সুলতানার গবেষণার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র ন্যানোউপাদানভিত্তিক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। তিনি বিশেষভাবে গ্রাফিনভিত্তিক শনাক্তকরণ যন্ত্র, সংবেদক, অতি ক্ষুদ্র তড়িৎ-যান্ত্রিক ব্যবস্থা, কোয়ান্টাম বিন্দু এবং নতুন ধরনের উপকরণ নিয়ে গবেষণা করছেন।
এসব প্রযুক্তির লক্ষ্য হলো মহাকাশ অভিযানে ব্যবহারের জন্য আরও সংবেদনশীল, হালকা ও কার্যকর যন্ত্র তৈরি করা। এর মাধ্যমে মহাকাশের বিভিন্ন বস্তু ও পরিবেশ সম্পর্কে আরও সূক্ষ্ম তথ্য সংগ্রহ এবং বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
২০১৯ সালে তাঁর নেতৃত্বাধীন দল ন্যানোউপাদানভিত্তিক শনাক্তকরণ যন্ত্রের একটি প্রযুক্তিমঞ্চ উন্নয়নের জন্য নাসার ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রযুক্তি উন্নয়ন পুরস্কার অর্জন করে। এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানে উন্নত বৈজ্ঞানিক যন্ত্র ব্যবহারের পথ সুগম করতে পারে।
গবেষণায় একাধিক পুরস্কার ও সম্মাননা
গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মাহমুদা সুলতানা নাসার গডার্ড কেন্দ্রের বর্ষসেরা উদ্ভাবক পুরস্কার, রবার্ট এইচ. গডার্ড পুরস্কার, নাসার প্রারম্ভিক কর্মজীবন অর্জন পদক এবং আইআরএডি নবাগত অর্জন পদক পেয়েছেন। এ ছাড়া জেমস ওয়েব মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্রসংশ্লিষ্ট কাজের জন্য দলগত অর্জন পুরস্কারও পেয়েছেন।
নাসায় যোগ দেওয়ার আগেই তিনি বেল ল্যাবরেটরিজের স্নাতকোত্তর গবেষণা ফেলোশিপ, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় বিজ্ঞান ফাউন্ডেশনের স্নাতকোত্তর গবেষণা ফেলোশিপ এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির উইলিয়াম সি. ও মার্গারেট এইচ. রুশো ফেলোশিপসহ বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি ও গবেষণা সহায়তা অর্জন করেন।
বর্তমানে মাহমুদা সুলতানা নাসার গডার্ড মহাকাশ উড্ডয়ন কেন্দ্রের যন্ত্রব্যবস্থা প্রকৌশল শাখার সহযোগী শাখাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই দায়িত্বের মাধ্যমে তিনি মহাকাশ গবেষণায় ব্যবহৃত যন্ত্রের নকশা, উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মাহমুদা সুলতানার অগ্রযাত্রা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী বিজ্ঞানীদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ। উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদান রাখার ক্ষেত্রে তাঁর কর্মজীবন নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিচর্চায় আগ্রহী করে তুলতে পারে।
মাহমুদা সুলতানার এই অর্জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী বিজ্ঞানীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
সূত্র: NASA অফিসিয়াল প্রোফাইল ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য।






