কক্সবাজার সৈকতে পাঁচ পর্যটকের মৃত্যু

জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় বালুচর, নিখোঁজ সাতজনের মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার, জীবিত ফিরেছেন তিনজন।
টুইট প্রতিবেদক: কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া পাঁচ পর্যটকের সবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে কলাতলী এলাকার ভাঙ্গার মোড়সংলগ্ন সৈকত থেকে নাফিসুল হক নিবিড় (২২) নামে এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৮ ঘণ্টা পর তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধার করা মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে হিমছড়ি এলাকার মারিনা রিসোর্টসংলগ্ন সৈকতে গোসল করতে নেমে সাত পর্যটক নিখোঁজ হন। পরে তাঁদের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ির বাসিন্দা রোহান (২৩) ও শহীদুল ইসলাম জিসান (২৩) এবং চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আকাশ (২১)।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরের সৈকতে ভেসে আসা মরদেহটি চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ কবিরের ছেলে মোহাম্মদ হারুনের বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেন তাঁর স্বজনেরা।
জোয়ারে তলিয়ে যায় বালুচর
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান জানান, পর্যটকদের দুটি পৃথক দল হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর-সংলগ্ন রেজু খাল পেরিয়ে সমুদ্র ও খালের মোহনায় জেগে ওঠা একটি বালুচরে বেড়াতে যায়। বিকেলের দিকে সাগরে পূর্ণ জোয়ার শুরু হলে ধীরে ধীরে বালুচরটি পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে।তবে পর্যটকেরা বিষয়টি বুঝতে পারেননি।
একপর্যায়ে পুরো বালুচর পানির নিচে চলে গেলে দুই দলের সদস্যরা সাগরের পানিতে আটকা পড়েন।
এ সময় তাঁরা বিপদের মুখে পড়েন বলে জানান ইউএনও।
জীবিত উদ্ধার তিনজন এ ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার মৃত আবুল কালামের ছেলে রাকিব হাসান, একই এলাকার মৃত ছগিরের ছেলে মো. সানী এবং বায়েজিদে বসবাসকারী নোয়াখালীর বাসিন্দা মো. হেলালের ছেলে মোহাম্মদ আকাশ।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সানী ও আকাশ জানান, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ট্রেনে করে তাঁরা কক্সবাজারে পৌঁছান। পরে পেঁচারদ্বীপে আগে থেকে বুকিং করা একটি অবকাশযাপনকেন্দ্রে ওঠেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাঁরা রেজু খাল পেরিয়ে ওই বালুচরে যান। একই সময়ে ঢাকা থেকে আসা আরেকটি পর্যটক দলও সেখানে অবস্থান করছিল।
হঠাৎ জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা বিপদের মুখে পড়েন বলে জানান দুই পর্যটক।
সমুদ্রসৈকতে জোয়ারের সময় ও পানির গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে অসচেতনতা যে কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, এ ঘটনা তারই একটি মর্মান্তিক উদাহরণ।
বিশেষ করে খাল ও সমুদ্রের মোহনায় জেগে ওঠা বালুচরে যাওয়ার ক্ষেত্রে জোয়ারের সময়, পানির উচ্চতা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত সতর্কতা মেনে চলা জরুরি।






