অবৈধ অভিবাসন কমলে বাড়বে বৈধ কর্মসংস্থান

ইউরোপে দক্ষ বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠাতে তৃণমূল থেকে অবৈধ অভিবাসন চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

টুইট প্রতিবেদক: অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বৈধভাবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাজের সুযোগ বাড়বে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বিশেষ করে দক্ষ শ্রমিকদের সরকারি পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ জোরদার করা গেলে গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের পথ আরও সুগম হবে বলে মনে করছে সরকার।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

গ্রিসের সঙ্গে পাঁচ বছর মেয়াদে প্রতিবছর চার হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়ার চুক্তি থাকলেও ভিসা জটিলতার কারণে গত দুই বছরে নির্ধারিত সংখ্যায় শ্রমিক পাঠানো সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, অবৈধ অভিবাসন বন্ধে সরকার তৃণমূল পর্যায় থেকে কাজ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, অবৈধভাবে ইউরোপে লোক পাঠানোর সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সমস্যা সমাধান করা না গেলে বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন কঠিন হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ জেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, অবৈধভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।

শামা ওবায়েদ ইসলামের মতে, অবৈধ অভিবাসন কমানো গেলে একদিকে যেমন বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণা ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে তেমনি দক্ষ বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।

দক্ষ শ্রমিক পাঠানোয় জোর

সরকারি পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা জোরদার করা হলে বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিয়মতান্ত্রিকতা বাড়বে। একই সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন খাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তবে গ্রিসের সঙ্গে বিদ্যমান শ্রমিক নিয়োগ চুক্তির আওতায় নির্ধারিত সংখ্যক কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে ভিসা জটিলতা দূর করা এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরও ভবিষ্যৎ অগ্রগতি নির্ভর করবে।

সরকারের লক্ষ্য হলো, অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ করা, যাতে বাংলাদেশি কর্মীরা নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিদেশে কাজ করতে পারেন।