বান্দরবানে পূজা ও পর্যটনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ঘোষণা

দুর্গাপূজা ঘিরে বাড়ছে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি, নিরাপত্তায় সমন্বিতভাবে কাজ করবে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও প্রশাসন

বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্‌যাপন এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং পর্যটকদের হয়রানি রোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজনীন সুলতানা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী বলেন, বান্দরবান শান্তি ও সম্প্রীতির জনপদ। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেই পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জেলার অগ্রগতি হচ্ছে। আসন্ন দুর্গাপূজায় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো গুজব যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সব সময় প্রশাসনের পাশে রয়েছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে সেনাবাহিনীর টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বান্দরবান বিজিবি সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুহাম্মদ রুবায়াত জামিল বলেন, সীমান্তসহ অভ্যন্তরীণ এলাকার নয়টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবির তিনটি বেইজ ক্যাম্প, ডগ স্কোয়াড ও মাইন সুইপিং টিম কাজ করবে। পাশাপাশি গুজবের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা বলেন, জেলার সব পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা, বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবকের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির সমন্বয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসব উদ্‌যাপনে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, বান্দরবানের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রয়েছে। পূজামণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা পুলিশি টহল, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। পর্যটকদের হয়রানি রোধে ট্যুরিস্ট পুলিশ সক্রিয় থাকবে। এ ছাড়া মাদক, কিশোর গ্যাং ও অপরাধ দমনে সম্মিলিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, বান্দরবান বিজিবি সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুহাম্মদ রুবায়াত জামিল, জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা, পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা।

সভায় শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা এবং পর্যটকবান্ধব বান্দরবান গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।