হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি অভিযান, মধ্যস্থতার প্রস্তাব ইরানের

সংলাপের আহ্বান আরাগচির, হুথিদের জন্য সাধারণ ক্ষমার পথ খুললেন ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল কাউন্সিলপ্রধান; ব্যাপক আত্মসমর্পণের দাবি এখনো অপ্রমাণিত!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।
সৌদি পক্ষও ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে ইরানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে সৌদি আরবের স্পষ্ট আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
আরাগচির বক্তব্য, সামরিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করে রাজনৈতিক সমাধান উপেক্ষা করলে সংকট আরও জটিল হবে। তিনি সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ শুরু করতে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। এদিকে সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন এবং হুথিদের হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অবস্থান বজায় রেখেছে।
হুথিদের জন্য সাধারণ ক্ষমার প্রস্তাব
ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি হুথি গোষ্ঠী ছেড়ে ফিরে আসা যোদ্ধাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় সাধারণ ক্ষমার সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে এটি আত্মসমর্পণকারী বা দলত্যাগী যোদ্ধাদের জন্য প্রস্তাব—হুথিদের ব্যাপকভাবে অস্ত্র সমর্পণ কিংবা অনুশোচনা করে ফিরে আসার প্রমাণ নয়।
সংঘাত এখনো চলমান
এদিকে সৌদি আরবের ধাহরানে আরামকোর সদরদপ্তরে হামলার ঘটনায় সরকারি বক্তব্যে সীমিত আগুনের কথা বলা হলেও রয়টার্সের সূত্রগুলো ভবনের ওপরের তলাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে। তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকিও অব্যাহত রয়েছে।
সার্বিকভাবে, ইরানের সংলাপের প্রস্তাব, সৌদি আরবের সামরিক অবস্থান এবং ইয়েমেন সরকারের সাধারণ ক্ষমার উদ্যোগ—তিনটি বিষয়ই সংঘাতের পরবর্তী গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে কোনো পক্ষের বিজয়, হুথিদের ব্যাপক আত্মসমর্পণ কিংবা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।






