অভিবাসন অপরাধ দমনে যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের

ভিসা ও নথি জালিয়াতি ঠেকানো, অবৈধ অভিবাসনসংশ্লিষ্ট অপরাধ দমন এবং মানব পাচার ও শোষণ থেকে নাগরিকদের সুরক্ষায় সহযোগিতা বাড়াবে দুই দেশ।

টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রতারণাপূর্ণ অভিবাসন প্রক্রিয়া ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের শোষণ থেকে সুরক্ষায় সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে নতুন একটি সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকায় অবস্থিত ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ব্রিটিশ হাইকমিশন জানিয়েছে, নতুন এই কাঠামোর আওতায় অভিবাসনসংশ্লিষ্ট সংঘবদ্ধ অপরাধ শনাক্ত, প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। বিশেষ করে নথি ও ভিসা জালিয়াতি এবং অনিয়মিত অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে সহযোগিতা বাড়ানো হবে।

এ উদ্যোগের আওতায় দুই দেশ তথ্য বিনিময় ও যৌথ কার্যক্রমগত সহযোগিতা জোরদার করবে। পাশাপাশি অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য নিয়মিত বৈঠকের আয়োজন করা হবে।

ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, অনিরাপদ ও অনিয়মিত অভিবাসনের পথ ব্যবহার করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া অপরাধী চক্রের শোষণ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের রক্ষা করাই এই অংশীদারত্বের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে বৈধ অভিবাসনকে সহায়তা এবং প্রতারণা, শোষণ ও মানব পাচারের ঝুঁকি কমাতেও কাজ করবে দুই দেশ।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দুই দেশের জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্ব গড়ে উঠেছে। অভিবাসন প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে যারা আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে মানুষকে শোষণ করে, সেই সংঘবদ্ধ অপরাধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দুই দেশের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন এই চুক্তি।

তিনি আরও বলেন, নিবিড় সহযোগিতার মাধ্যমে অভিবাসনসংশ্লিষ্ট সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলা, বৈধ অভিবাসনে সহায়তা এবং প্রতারণা, শোষণ ও মানব পাচার থেকে ব্যক্তি ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার প্রচেষ্টা জোরদার করা হবে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ভিসা জালিয়াতি, প্রতারণামূলক চাকরির প্রলোভন ও মানব পাচারের ঝুঁকি কমাতে দুই দেশের মধ্যে কার্যকর তথ্য বিনিময় এবং অপরাধীদের শনাক্ত করার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই উদ্যোগের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে সহযোগিতার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পদক্ষেপের ওপর।