রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত, আইসিইউতে চারজন

মরদেহ দেশে ফেরাতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দেবে সরকার।
নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নিহতরা হলেন বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের মো. শাহেদ আহম্মেদ এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। এ ঘটনায় গুরুতর আহত আরও চার বাংলাদেশি রিয়াদের কিং খালিদ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, শনিবার (১০ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ওই সময় বিমানবন্দরে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা অপেক্ষা করছিলেন। হামলায় মোট ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, নিহত মো. শাহেদ আহম্মেদের বাবা মো. রফিকুল ইসলাম এবং মা শাহেরা বেগম। তিনি সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন এবং তাঁর বৈধ ইকামা বা কাজের অনুমতিপত্র ছিল।
অন্যদিকে, নিহত মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরির বাবা মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ এবং মা জাহানারা বেগম। তিনি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলূম মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ৪৫ সদস্যের একটি কাফেলার সঙ্গে তিনি সৌদি আরব যাচ্ছিলেন। রিয়াদ বিমানবন্দরে ট্রানজিটের সময় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনি নিহত হন। তাঁর বয়স ছিল আনুমানিক ৩৫ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন।
হামলায় গুরুতর আহত চার বাংলাদেশি বর্তমানে রিয়াদের কিং খালিদ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে। আহতদের শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানার প্রক্রিয়া চলছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এ জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যৌথভাবে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। দ্রুততম সময়ে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়েও সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছে।
বাংলাদেশ সরকার এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের পাশে থাকার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। হামলায় দুই বাংলাদেশির প্রাণহানি এবং আরও চারজনের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় তাঁদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আহতদের চিকিৎসা ও পরিবারের সহায়তা নিশ্চিত করতে এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের সমন্বিত উদ্যোগের দিকে নজর রয়েছে।






